ছেলের হাতে ট্রফি দেখতে চান স্কিমিচেল

কোপেনহেগেন : পিতা-পুত্রের জটিল অঙ্ক নয়। বরং ২৯ বছর ধরে অমিল সূত্রকে সরল সমীকরণে মিলিয়ে দেওয়ার যাবতীয় প্রচেষ্টা। তার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ড্যানিশ কিংবদন্তি পিটার স্কিমিচেল। সঙ্গে গোটা ডেনমার্ক।

চলতি ইউরোর শুরুটা মোটেই সুখকর হয়নি ডেনমার্কের জন্য। ফিনল্যান্ড ম্যাচে দলের স্তম্ভ ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা ফুটবলবিশ্বকে। সেইধাক্কা আরও সংঘবদ্ধ করেছেন ড্যানিশ ফুটবলারদের। হার না মানা সেই মনোভাবকে পাথেয় করেই ইউরোর সেমিফাইনালে ক্যাসপার জুলমান্ডের দল।

- Advertisement -

শনিবার বাকুর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে চেক প্রজাতন্ত্রকে ধরাশায়ী করতেই তাই আবেগে ভাসলেন গর্বিত পিতা পিটার স্কিমিচেল। ডেনমার্কের কিংবদন্তি একাধারে আবার ড্যানিশ গোলরক্ষক ক্যাসপার স্কিমিচেলের বাবা। ৯২-এ তাঁর হাতে ইউরো কাপ উঠেছিল। ২৯ বছরের ব্যবধানে পুত্র ক্যাসপারের হাতেও ট্রফি দেখতে চান স্কিমিচেল। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি গোলরক্ষকের কথায়, ক্যাসপার (জুলমান্ড) ও তার ছেলেদের পারফরমেন্সে আমি মুগ্ধ। নিজেদের দক্ষতাকে ওরা ছাপিয়ে গিয়েছে।

এরিকসেনের প্রসঙ্গে টেনে ৫৭ বছরের স্কিমিচেল আরও বলেন, তিন সপ্তাহ আগে এই ছেলেগুলি মাঠে তাদের সতীর্থকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনযুদ্ধে লড়তে দেখেছে। সেটা কম ধাক্কা নয়। তারপরে যে দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিয়ে তারা দলকে ইউরোর সেমিফাইনালে তুলেছে, তার কোনও তুলনা চলে না। ডেনমার্কের এই অকুতোভয় লড়াই তাঁর চোখে অপ্রত্যাশিত নয় বলে দাবি স্কিমিচেলের।

এরিকসেন এফেক্ট থেকে যে দল বেরোতে পারেনি, তা স্পষ্ট কোচ জুলমান্ডেক কথাতেও। সেমিফাইনালের টিকিট অর্জনের পর তাঁর মন্তব্য, প্রতিটি মুহূর্তে ক্রিশ্চিয়ানের (এরিকসেন) কথা মনে পড়ে। ও দলে থাকা জরুরি ছিল। পাশাপাশি এরিকসেন না থাকার আক্ষেপ ঝেড়ে ফেলে ড্যানিশ কোচ বলেছেন, এরিকসেন আমাদের হৃদয়ে ছিল। ওকে সঙ্গে করেই আমরা ইউরো কাপের প্রতিটি ম্যাচে লড়েছি। ওয়েম্বলিও তার ব্যতিক্রম হবে না।