ভারত-নেপাল সীমান্তে রমরমিয়ে চলছে পেট্রোল-ডিজেলের চোরাকারবার

108

কিশনগঞ্জ: পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে কিশনগঞ্জ জেলার ভারত-নেপাল সীমান্তে পেট্রোল, ডিজেলের চোরাকারবারীরা অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠছে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার জেলার পেট্রোল পাম্পগুলিতে পেট্রোল প্রতি লিটার ৯৩.৯৩ ও ডিজেল ৮৭.০৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু নেপালে পেট্রোল, ডিজেল এই মূল্যের থেকে ১৮ টাকা, ২০ টাকা কমদরে পাওয়া যাচ্ছে। এরফলে জেলার নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন দিঘলব্যাংক, গলগলিয়া, ঠাকুরগঞ্জ, পোয়াখালী, টেরাগছ-এর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পকেট রাস্তা দিয়ে কিশনগঞ্জ জেলায় রমরমিয়ে নেপালের পেট্রোপণ্য প্রায় সারাদিন ধরে চোরাচালান হচ্ছে বলে অভিযোগ।

জেলার সীমান্তের গ্রামাঞ্চলের বেকার যুবকরা মোটর সাইকেলের ট্যাংক প্রায় খালি করে নেপাল যাচ্ছে। আবার মোটর সাইকেলের দু’দিকে ১০-২০ লিটারের খালি প্লাস্টিকের ড্রাম ঝুলানো থাকছে। জানা গিয়েছে, প্রায় খালি মোটর বাইকের ট্যাংকে পেট্রোল ও প্লাস্টিকের ড্রামে ডিজেল ভরে জেলায় বারবার প্রবেশ করছে।সূত্রে জানাগেছে সীমান্তের মেন রোডে এসএসবি, অবিরত টহল চলে। সেইজন্য পেট্রোপণ্য পাচারকারীরা সীমান্তের পকেট রুট ব্যবহার করে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, নেপাল সীমান্তের সংলগ্ন জেলার সুখানি, বক্সারভিটা, লঙরাদুবা, সুরিভিটটা, কদ্দুভিটা, জিয়াপুকুর, পাঁচগাছী, খরবালতোলা, বালুবাড়ী, পলসা, কাঞ্চনবাড়ী, মাফিয়াতোলা, তাঁতপৌআ গ্রামাঞ্চলের পকেট রুতদিয়ে অবাধে এই চোরাচালান হচ্ছে।আবার গ্রামাঞ্চলের চা,পান,মুদির দোকানে কিসনগঞ্জের পেট্রোল পাম্পের বর্তমান দরের থেকে একটু স্বল্প মূল্যে প্লাস্টিকের বোতল ৫-১০ লিটারের জারে নেপালের পেট্রোল ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ নেপাল ও জেলার পুলিশ সবকিছু দেখে ও নীরব। দিঘলব্যাংক থেকে নেপালের পেট্রোল পাম্পের দূরত্ব ৫৭কিমি। আবার পোয়াখালী থেকে নেপালের পেট্রোল পাম্পের দূরত্ব প্রায় একই। আর ঠাকুরগঞ্জ থেকে প্রায় ২০কিমির মত বলে সূত্র জানিয়েছে। আজ নেপালে ভারতীয় মূল্যে ডিজেলের দাম ৬২.৫০ টাকা, পেট্রোল ভারতীয় মূল্যে ৮৭ টাকা প্রতি লিটার বলে নেপালের পাম্পে বিক্রি হচ্ছে।

যদিও মাঝেমাঝে এসএসবির হাতেনাতে এই চোরাচালানিরা ধরা পড়েছে। অপরদিকে, জেলার অন্তর্গত সুপার কুমার আশীষের মন্তব্য, সীমান্তে এই চোরাচালানের খবর পাওয়া গিয়েছে। সেইজন্য জেলার সীমান্তের দিঘলব্যাংক, গলগলিয়া, সুখানি, কাঁদগাঁও, জিয়াপুকুর, টেরাগছ, ফতেপুর ও অন্যান্য সীমান্ত সংলগ্ন থানার আইসি, ওসিদের এসএসবির সাথে সমন্বয় করে এই চোরাচালান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।