কিশনগঞ্জে পানের দোকানে নেপালের পেট্রোল

503

শক্তিপ্রসাদ জোয়ারদার, কিশনগঞ্জ : পেট্রোলের দাম প্রায় ১০০ ছুঁইছুঁই। যাঁরা নিয়মিতভাবে বাইক, গাড়ি চালান তাঁদের মাথায় হাত। এই অবস্থায়  যদি লিটার প্রতি প্রায় ২০ টাকা কমে পেট্রোল মেলে তবে কেমন হয়? কেমন আবার,  যে কেউই ওই পেট্রোল কিনতে দৌড়াবেন। হচ্ছেও তাই। ভারতীয় মূল্যের তুলনায় নেপালে লিটার প্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা কম দামে পেট্রোল, ডিজেল বিক্রি হওয়ায় তা নিয়ে অবাধে চোরাকারবারি শুরু হয়েছে। নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন দিঘলব্যাংক, গলগলিয়া, ঠাকুরগঞ্জ, পোয়াখালি, টেরাগছের মতো প্রত্যন্ত এলাকাগুলি দিয়ে কিশনগঞ্জে রমরমিয়ে পেট্রোল, ডিজেল নিয়ে আসা হচ্ছে। সেই পেট্রোল, ডিজেল রমরমিয়ে পান-বিড়ি, মুদির দোকানগুলিতে বিক্রি হচ্ছে। আর এই সুবাদে ভারতে পেট্রোপণ্যের রাজস্ব মার খাচ্ছে। সমস্যা মেটাতে পুলিশের হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে। পুলিশ অবশ্য সমস্যার বিষয়টি মেনে নিয়েছে।

কিশনগঞ্জের পুলিশ সুপার কুমার আশিস বলেন, সীমান্ত দিয়ে পেট্রোপণ্যের চোরাচালানের খবর মিলেছে। এজন্য দিঘলব্যাংক, গলগলিয়া, সুখানি, কাঁদগাঁও, জিয়াপুকুর, টেরাগছ, ফতেপুর ও অন্যান্য সীমান্ত সংলগ্ন থানার আইসি, ওসিদের এসএসবির সঙ্গে সমন্বয় করে এই চোরাচালান বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, অদ্ভুত কায়দায় নেপাল থেকে পেট্রোল, ডিজেল কিশনগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। সীমান্তের গ্রামগুলিতে বসবাসকারী যুবকরা মোটর সাইকেল নিয়ে নেপাল  যান। সেই ট্যাংক প্রায় ফাঁকা থাকছে। অনেকে মোটর সাইকেলের দুধারে ১০ এবং ২০ লিটারের ফাঁকা ড্রাম ঝুলিয়ে নিয়ে  যান। নেপাল থেকে মোটর সাইকেলের ট্যাংক ও ওই জারগুলিতে পেট্রোল, ডিজেল ভরে তাঁরা কিশনগঞ্জে ফিরে আসেন। সীমান্তের মূল রাস্তাগুলিতে এসএসবি টানা টহলদারি চালায়। তাই এই চোরাচালানের জন্য চোরাকারবারিরা সীমান্তের পকেট রুটগুলিকে ব্যবহার করছে। এই পেট্রোল, ডিজেল গ্রামাঞ্চলের পান-বিড়ি, চায়ের দোকানগুলিতে বিক্রি হচ্ছে। ৫-১০ লিটারের জারে ভরে এই পেট্রোল, ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে। কিশনগঞ্জে পেট্রোল পাম্পে  যে দামে বর্তমানে পেট্রোল, ডিজেল বিক্রি হচ্ছে তার তুলনায় বেশ কিছুটা সস্তা দরে এগুলি বিক্রি করা হচ্ছে।

নেপাল ও কিশনগঞ্জের পুলিশ সবকিছু দেখেও নীবর বলে অভিযোগ। এভাবে নেপাল থেকে পেট্রোল, ডিজেল চোরাপথে ভারতে এনে বিক্রি করায় দেশের রাজস্ব মার খাচ্ছে বলে অভিযোগ। সমস্যা মেটাতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।