ভারতে আসতে পারে ফাইজারের টিকা

192

নিউজ ব্যুরো : করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাহিল ভারত। সংক্রমণ-গ্রাফ কিছুটা নিম্নগামী হলেও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তৃতীয় ঢেউ দাঁড়িয়ে অদূরেই। এই পরিস্থিতিতে সতর্কতার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হলেও টিকাকরণই আসল অস্ত্র বলে তাঁরা জানাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের দেশের ১৩৫ কোটি মানুষের টিকাকরণ খুব সহজ বিষয় নয়। পর্যাপ্ত টিকার অভাব সমস্যা বাড়াচ্ছে। এই অবস্থায় ফাইজারের টিকা মুশকিল-আসান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর ২৪ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। তাঁর এই সফরে ভারতের ফাইজারের টিকা ব্যবহার নিয়ে জট কাটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

গোটা দুনিয়ায় এখনও পর্যন্ত কোভিডের যে সমস্ত টিকাকে সফল বলে মনে করা হয়, ফাইজার সেগুলির মধ্যে অন্যতম। সাফল্যের হার প্রায় ৯০ শতাংশ। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র তালিকায় এই টিকাকেই প্রথম মান্যতা দেওয়া হয়। কিন্তু এই টিকার সংরক্ষণ নিয়ে প্রথম থেকে কিছু সমস্যা রয়েছে। আগে বলা হয় -৮০ ডিগ্রি থেকে -৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছাড়া এই টিকা সংরক্ষণ করা যাবে না। কিন্তু পরে মার্র্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একযোগে জানিয়ে দেয় সাধারণ ফ্রিজের তাপমাত্রায় এই টিকাকে প্রায় ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। ভারতীয় স্ট্রেনকে করোনা ভাইরাসের সব থেকে বিপজ্জনক অবতার হিসাবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ফাইজার এই অবতারকেও অনায়াসে রুখে দিতে সক্ষম বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে। ১২-১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ব্যবহারের জন্য গোটা বিশ্বে প্রথম দেশ হিসাবে কানাডা ফাইজারের টিকা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

- Advertisement -

বিদেশি দেশগুলি এখন ভ্যাকসিন সার্টিফিকেটে জোর দিয়েছে। কোভিডের টিকা না নেওয়া থাকলে ওই দেশগুলিতে ঢোকার সুযোগ মিলবে না। ভারতে বর্তমানে কোভিডের তিনটি টিকা দিয়ে সবার টিকাকরণ চলছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন আর রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি। তিনটির মধ্যে একমাত্র প্রথমটিকে বাদ দিয়ে বাকি দুটিকে হু মান্যতা দেয়নি। ফলে যাঁরা এই টিকাগুলি নিয়েছেন তাঁরা বিদেশে যেতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ভারতে ফাইজারের ব্যবহারের অনুমতি মিললে এই সমস্যা অনেকটাই মিটবে।

এমন নয় যে ফাইজার তাদের টিকা নিয়ে ভারতে ব্যবসা করতে ইচ্ছুক নয়। বরং যথেষ্টই ইচ্ছুক। কিন্তু বাদ সেধেছে তাদের দাবি। তারা ইনডেমনিটি বন্ডের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার তাদের সেই দাবি মানতে রাজি নয়। কী এই ইনডেমনিটি বন্ড? সোজা কথায়, টিকা নেওয়ার পর কারও যদি কোনও সমস্যা হয় তবে সংস্থাকে কোনওমতেই দায়ী করা যাবে না। সরকারি এক আধিকারিকের কথায়, এই বন্ডে সই করার অর্থ, টিকা নিয়ে কেউ গুরুতর অসুস্থ বা মারা গেলে সংস্থা নয়, কেন্দ্রীয় সরকার দায়ী থাকবে। আমরা কেন এই বন্ডে সই করব? অন্যদিকে ফাইজারের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে তারা ইতিমধ্যেই এই আইনি সুরক্ষা পেয়েছে। তবে ভারত থেকে তারা কেন এই সুরক্ষা পাবে না বলে তাদের দাবি। এছাড়া, ভারত এই দেশে এই টিকার ট্রায়ালের দাবি জানালেও ফাইজার তাতে রাজি নয়। তাদের দাবি, ইউএসএফডিএ এবং ইইউ এই টিকা ব্যবহারে তাদের ছাড়পত্র দেওয়ার পর ভারতে তাদের টিকার ট্রায়ালের কোনও মানেই হয় না।

অন্যদিকে, এই টিকার ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সূত্রের খবর, এই টিকার একটি ডোজের দাম প্রায় ১,৭০০ টাকা পড়বে, যা ভারতে বর্তমানে চালু তিনটি টিকার দামের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, ফাইজারের টিকার দাম বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে না। দেশবাসীর একটি বড় অংশই এই টিকা কিনতে সক্ষম।

দেশে মার্কিন এই টিকা আদৌ ব্যবহার করা হবে কি না তা এখন বিদেশমন্ত্রীর সফরের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, ২৪-২৮ মে যুক্তরাষ্ট্র সফরে জয়শংকর রাষ্ট্রসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্টনিও গুতেরেস ও সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে দেখা করবেন। পাশাপাশি, কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি জো বাইডেন প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গেও সাক্ষাত্ করবেন। তবে তাঁর গোটা নজরই সেখানকার টিকার ওপরই থাকবে। বিদেশমন্ত্রক জয়শংকরের যুক্তরাষ্ট্র সফরসূচির খোলসা না করলেও মন্ত্রী তাঁর এই সফরে তিন মার্কিন কোভিড টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থা ফাইজার, মডার্না আর জনসন অ্যান্ড জনসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই তিন সংস্থার উদ্বৃত্ত ২০ মিলিয়ন ডোজ অন্যত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৬০ লক্ষ ডোজও রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহারের অনুমতি না মিললেও এফডিএর ছাড়পত্র মেলার পর এই টিকা অন্যত্র দান করা হবে।