সিকিমে কারখানা বন্ধ, ওষুধের সংকট দেখা দিতে পারে

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা : সিকিমে করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের জেরে বহু ওষুধ কোম্পানিকে ঝাঁপ ফেলতে হয়েছে। বেশ কিছুদিন যাবৎ অধিকাংশ কারখানাতেই ওষুধ তৈরি বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সারা দেশেই ওষুধের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ সহ দেশের অন্য প্রান্তের পাশাপাশি ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্য সিকিমে অধিকাংশ ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা কারখানা স্থাপন করেছে। আগে কর সংক্রান্ত নানা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য সিকিমের বিশেষ অর্থনৈতিক জোনগুলিতে ওষুধ কোম্পানিগুলি ঘাঁটি গেড়েছিল। সেই থেকে দেশের মোট ট্যাবলেট, ক্যাপসুলের ৬০ শতাংশই ওই রাজ্যে উৎপাদিত হয়। ম্যানকাইন্ড ফার্মা, সান ফার্মা, অ্যালেম্বিক ফার্মা, ম্যাকলিয়ডস ফার্মা, সিপলা, টরেন্ট ফার্মা, লুপিন ইত্যাদি বহু নামকরা কোম্পানি সিকিমে এক বা একাধিক ইউনিট থেকে ওষুধ উৎপাদন করে।

দেশে করোনা সংক্রমণে প্রথম দিকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সিকিমে সংক্রমণের নামগন্ধ ছিল না। কিন্তু পরবর্তীকালে অন্য রাজ্য থেকে লোকজন ফিরলে সেখানে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। এখন সিকিমে সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সেখানে এখন সম্পূর্ণ লকডাউন চলছে। কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে ৩ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন চলবে। এর মধ্যে ওই সব এলাকায় আবার সংক্রমণের সন্ধান মিললে তা ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর। ওষুধ কোম্পানিগুলির কর্মীদের মধ্যেও সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ওষুধ প্রস্তুতকারকরা জানিয়েছেন, অনেক ইউনিট কর্মীর অভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বাজারে জোগান পর্যাপ্ত রাখার জন্য ওষুধ তৈরির পরিমাণে সর্বদাই নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। তা না হলে বাজারে ওষুধের টান পড়ার সম্ভাবনা। কিন্তু ইউনিটগুলি বন্ধ থাকায় বিশেষভাবে মার খাচ্ছে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও সুগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ রোগের ওষুধের উৎপাদন। একইসঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকের উৎপাদনও অত্যন্ত কমে গিয়েছে। ওষুধ প্রস্তুতকারকরা জানিয়েছেন, যে সব কোম্পানির অন্য রাজ্যে ইউনিট রয়েছে, তারা কিছু কিছু ওষুধের উৎপাদন সেখানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এর জন্য আলাদা লাইসেন্স নিতে হচ্ছে।

- Advertisement -

বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সুশান মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি শুনেছি সিকিমের কারখানাগুলিতে ওষুধের উৎপাদন অনেকটাই কমে গিয়েছে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, সুগার, গ্যাসট্রাইটিস ইত্যাদি অসংক্রামক রোগের ওষুধের ভাঁড়ারে টান পড়তে পারে। এই মুহূর্তে দোকানগুলিতে কিছু স্টক নিশ্চয়ই আছে। তবে সিকিমের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পরবর্তীকালে ওষুধে টান পড়বেই। ওষুধ বিক্রেতাদের শীর্ষ সংগঠন বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সজল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমাদের কাছে যা স্টক আছে তাতে আগামী দু-তিন মাস সমস্যা হবে না। এই মুহূর্তে অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদাও কম। তবে সরবরাহে টান পড়লে তারপর সমস্যা হতেই পারে।