বলরামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী দেখেন ফার্মাসিস্ট

তুষার দেব, দেওয়ানহাট : তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের বলরামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও চিকিৎসক নেই। রোগী দেখেন একজন ফার্মাসিস্ট। বলরামপুর-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত সহ পার্শ্ববর্তী পানিশালা, জিরানপুর ও শালমারা এলাকা মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক মানুষ এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আসেন। কিন্তু প্রায় দুবছর ধরে কোনও চিকিৎসক নেই। ফার্মাসিস্টই চিকিৎসক। পাশাপাশি এখানকার মূল ভবন সহ বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও নিকাশি ব্যবস্থারও বেহাল দশা। জলে ভিজে নষ্ট হয় ওষুধ। বিদ্যুতের কোনও ভরসা না থাকায় প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ফ্রিজে সংরক্ষণ হয় না। নেই কোনও স্থায়ী সাফাইকর্মী। স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে ঘুরে বেড়ায় গোরু। এছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্মীয়মাণ ভবনের কাজ ঢিমেতালে চলছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ বিষয়ে তুফানগঞ্জ-১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সত্যেন্দ্র কুমার বলেন, ওখানে শূন্যপদ থাকলেও কোনও চিকিৎসক কাজে যোগ দিতে চান না। করোনা পরিস্থিতির জন্য নির্মীয়মাণ ভবনের কাজে কিছুটা দেরি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিডিওর সঙ্গে কথা বলেছি। অন্যান্য বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি।

- Advertisement -

অবস্থানগত দিক থেকে এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দুবছর যাবৎ চিকিৎসকের পরিবর্তে একজন ফার্মাসিস্ট রোগী দেখছেন। তাঁকে সহায়তার জন্য দুজন মাত্র নার্স রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অস্থাযী সাফাইকর্মী সপ্তাহে একদিন কাজ করছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বর আগাছা, আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোও অত্যন্ত দুর্বল। বহু পুরোনো মূল ভবনের ছাদে অজস্র ফাটল। দরজা, জানালা ও দেওয়ালের পলেস্তারার অবস্থাও তথৈবচ। মাঝেমধ্যেই ছাদ থেকে চাঙড় খসে পড়ে। তাই বিপদ এড়াতে বাইরের খোলা বারান্দাতেই আউটডোর ও ড্রেসিংয়ে কাজ চলে। সামান্য বৃষ্টিতেই ডিসপেনসারি জলে ভাসে। ফলে বহু মূল্যবান ওষুধ জলে ভিজে নষ্ট হয়। দিনকয়ে পরপর এখানকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ে। তাই কর্তৃপক্ষ অতি প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারে না। বহু বছর ধরে এখানকার স্টাফ কোয়ার্টার পোড়ো বাড়িতে পরিণত হয়েছে। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে হাঁটুসমান জল জমে যায়। এখানে পানীয় জল নিয়ে সমস্যা রয়েছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র আসা কাঁঠালপাড়া এলাকার উজ্জ্বল বর্মন বলেন, এখানে চিকিৎসক নেই। পরিকাঠামোরও অভাব। তাই স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে অত্যন্ত সমস্যা হয়। ভূতপাড়া এলাকার দিলীপ অধিকারী বলেন, এখানে নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু হলেও অজানা কারণে তা ঢিমেতালে চলছে। তৃণমূল ও বিজেপির নেতারাও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। তৃণমূল পরিচালিত বলরামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কুমার নীরেন্দ্রনারায়ণ বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে চিকিৎসক না থাকায় সকলের সমস্যা হচ্ছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এখানে চিকিৎসক নিযোগের দাবি জানিয়েছি। বিজেপির ১৫ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত সেন বলেন, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে উদাসীন। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্মীয়মাণ ভবনের কাজের মান ও গতি নিয়ে তিনি অভিযোগ তুলেছেন।