চিকিৎসকশূন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বহির্বিভাগ চালাচ্ছেন ফার্মাসিস্ট

রাহুল দেব, রায়গঞ্জ : প্রায় দুই বছর ধরে চিকিৎসকশূন্য অবস্থায় রয়েছে রায়গঞ্জ ব্লকের বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্গাপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বহির্বিভাগ পরিষেবা চালাচ্ছেন ফার্মাসিস্ট। পরিস্থিতির কথা মেনে নিয়েছেন বিএমওএইচ। ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে অবশ্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে একজন করে কমিউনিটি হেল্থ সার্ভিস অফিসার ও জিএনএম যাতে নিযুক্ত করা যায়, সেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর বক্তব্য, চিকিৎসক না থাকার কারণে তাঁদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ছোটখাটো অসুখ হলেও রায়গঞ্জ সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ছুটতে হয়। দুই বছর আগে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যে চিকিৎসক ছিলেন, তাঁকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। দুর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি রায়গঞ্জ ও ইটাহার ব্লকের ঠিক সংযোগস্থলে। দুর্গাপুর, সুরুন-১, সুরুন-২, কুনোর, সাহেবঘাটা, তরঙ্গপুর এলাকার বাসিন্দারাও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় সাত বছর আগে এক কোটি টাকা খরচ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন তৈরি করা হয়েছিল। গৌতম অধিকারী নামে একজন চিকিৎসককে স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে তাঁকে রায়গঞ্জ ব্লকেরই ভাটোল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ করা হয়েছে। তবে অফিসিয়ালি গৌতমবাবু একসঙ্গে ভাটোল ও দুর্গাপুর দুই জায়গারই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শুভব্রত অধিকারী, জয়দীপ চাকি, সুপ্রিয় সাহা, সৌম্যব্রত দে জানান, অনেকদিন ধরেই এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নেই। তার ফলে সমস্যার সম্মুখীন তাঁরা সকলেই। সমস্যার দ্রুত সমাধান চাইছেন তাঁরা।

- Advertisement -

স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকার মহিলারা জানান, এখানে চিকিৎসক বা নার্স কেউই নেই। সামান্য অসুখেই তাঁদের রায়গঞ্জে যেতে হয় চিকিৎসার জন্য। এখানে যাতে স্থায়ী চিকিৎসক, নার্স ও শয্যার ব্যবস্থা করা হোক। ইটাহার ব্লকের তৃণমূল সভাপতি অমিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগে একজন খুব ভালো চিকিৎসক ছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালের শুরুর দিকে তৎকালীন সিএমওএইচ নিজের ক্ষমতাবলে তাঁকে অন্যত্র বদলি করে দিয়েছিলেন। তিনি সকাল নটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকতেন এবং এলাকাবাসীর খুব কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি এখানে থাকাকালীন রোজ অনেক রোগী আসতেন। কিন্তু এই মূহুর্তে কখনও সুইপার, কখনও স্টোর কিপাররা ওষুধ দেন। জেলা পরিষদের কাছে বহুবার দরবার করে সাত বছর আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন তৈরি হয়েছিল। এর জন্য প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। অথচ এই সময়ে মধ্যেই ভবনের বিভিন্ন অংশ খসে পড়েছে।

ইটাহার ব্লকের ৩ নম্বর দুর্গাপুর  গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রশান্ত সরকার বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দুর্গাপুরে থাকলেও সেটি রায়গঞ্জ ব্লকের বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতাধীন। সংলগ্ন এলাকার অনেক মানুষ ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। এই মূহূর্তে সেখানে কোনও চিকিৎসক নেই। আমরা চাই, যাতে অবিলম্বে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়োগ করা হোক। আগের চিকিৎসককে পুনরায় এখানে পাঠানো হলে আমাদের সকলের পক্ষে সুবিধা হয়। রায়গঞ্জ ব্লকের ১১ নম্বর বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মীনা হেমব্রম বলেন, বিষয়টা শুনেছি। একদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে যাব। সেখানে যাতে অবিলম্বে চিকিৎসক নিযুক্ত করা হয়, সেজন্য উপযুক্ত জায়গায় বলব। এ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের বিএমওএইচ আলতামাজ আলি বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। ওই ফার্মাসিস্টকে দিয়ে আপাতত বহির্বিভাগ পরিষেবা চালানো হচ্ছে। চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছে।