ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে রোগী দেখেন ফার্মাসিস্ট

364

জগন্নাথ রায়, ময়নাগুড়ি : ময়নাগুড়ি ব্লকের সাপ্টিবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বহু বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। স্থায়ী চিকিৎসক নেই। পরিস্থিতির চাপে ফার্মাসিস্ট রোগী দেখতে বাধ্য হন। অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা নেই। সাপ্টিবাড়ি-১ এবং সাপ্টিবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির উপর নির্ভর করেন। কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির এমন বেহাল দশায় তাঁরা খুবই সমস্যায় পড়েছেন। এনিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। সমস্যা মেটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর আশ্বাস দিয়েছে।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অনিতা রায় বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদে ফাটল ধরায় বৃষ্টির জল ভিতরে ঢোকে। স্থায়ী চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা সঠিক পরিষেবা পান না। উপরমহল এখানে এসে সবকিছু দেখে গেলেও কোনও কাজের কাজ হয়নি। ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ তপন মজুমদার বলেন, বাসিন্দারা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ী চিকিৎসক, নতুন ঘর, সীমানাপ্রাচীর সহ বেশকিছু দাবি জানিয়েছেন। এই বিষয়গুলি নিয়ে আমি উপরমহলের দ্বারস্থ হব। তৃণমূল কংগ্রেসের ময়নাগুড়ি-২ ব্লক সভাপতি শিবশংকর দত্ত বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিষয়ে বাসিন্দাদের দাবিগুলি যুক্তিসংগত। এখানে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য আমরা বিধায়ককে দাবি জানিয়েছিলাম। বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীর অবশ্য দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিষয়ে কেউ কখনও তাঁকে কোনও দাবি জানাননি। ময়নাগুড়ি বিএমওএইচ লাকি দেওয়ান বলেন, সমস্ত সমস্যার বিষয়ে উপরমহলকে জানানো হয়েছে। জলপাইগুড়ির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রমেন্দ্রনাথ প্রামাণিক বলেন, দ্রুত সাপ্টিবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্ত সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হবে।

- Advertisement -

সাপ্টিবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১৯৫৪ সালে স্থাপিত হয়। সেই সময়ে নির্মিত ভবনে আজও চিকিৎসা পরিষেবা চলছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রতিটি ঘরের দেওয়াল ও ছাদে ফাটল ধরেছে। অনেক জায়গায় দেওয়ালের ভিতরে থাকা লোহার রড বাইরে বেরিয়ে এসেছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ ও দেওয়াল দিয়ে জল ভিতরে ঢুকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরের আসবাবপত্র ভিজে যায়। মেঝেতে জল দাঁড়িয়ে যায়। যে কোনও সময় ভবনটি ভেঙে পারে বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। আবাসনগুলি অব্যবহৃত অবস্থায় থাকায় বেহাল হয়ে পড়েছে। এখানে কোনও স্থায়ী চিকিত্সক নেই। চিকিত্সকের অনুপস্থিতিতে ফার্মাসিস্ট রোগী দেখতে বাধ্য হন। সর্দি, কাশি, জ্বর, মাথাব্যথা ছাড়া অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা হলে এখানে পরিষেবা মেলে না বলে অভিযোগ। সমস্যা একটু বড় হলেই রোগীদের প্রায় ২০-৫০ কিলোমিটার দূরে ময়নাগুড়ি, মেখলিগঞ্জ বা জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে যেতে হয়। বহু বছর ধরে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের দাবি থাকলেও আজও তা পূরণ হয়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের মোটা টাকায় গাড়ি ভাড়া করে হাসপাতালে যেতে হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে সীমানাপ্রাচীর, সুষ্ঠু নিকাশি ব্যবস্থার দাবিও জোরালো হয়েছে।

এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করাতে আসা সুরেশচন্দ্র বর্মন বলেন, চোখের সমস্যা নিয়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এলেও এখানে কোনও চিকিৎসককে পাইনি। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও সময়ই ভালো পরিষেবা মেলে না। অ্যাম্বুল্যান্স নেই। মুমূর্ষু রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তাতেই অনেকে মারা গিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা খুরশিদ আলম বলেন, অবিলম্বে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ী চিকিৎসকের বন্দোবস্ত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল ভবনের সংস্কার করতে হবে। অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুর পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যাও মেটাতে হবে।