শিলিগুড়ি : প্রায় এক বছর ধরে শিলিগুড়ি সহ গোটা উত্তরবঙ্গে ফার্মাসি লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করা হচ্ছে না। ফলে সমস্যায় পড়েছেন উত্তরবঙ্গের আট জেলার ওষুধ ব্যবসায়ীরা। কারও গত বছর আবার কারও চলতি বছরের মার্চ মাসে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গে ফার্মাসি কাউন্সিলের কোনো শিবির না হওয়ায় কেউই লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করাতে পারছেন না। এই ইশ্যুতে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফার্মাসি কাউন্সিলের কর্তাদের চিঠি দিয়েছে ফেডারেশন অফ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, নর্থবেঙ্গল (ফোসিন)। বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিযেনের রাজ্য সম্পাদক সুবোধ ঘোষ বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ফার্মাসি কাউন্সিলের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে পুজোর পরে উত্তরবঙ্গে শিবির হবে।

উত্তরবঙ্গে প্রতি বছর অন্তত ১৫ হাজার ফার্মাসি লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করা হয়। প্রযোজনে বছরে একাধিকবারও শিবির হয়। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির জন্য শেষবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ফার্মাসি লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ শিবির হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে ওষুধ ব্যবসায়ী এবং ফার্মাসিস্টরা বারবার আবেদন করেছেন কিন্তু এখানে শিবিরের আযোজন করা হয়নি। শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ার ষাটোর্ধ্ব ফার্মাসিস্ট সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, আগে কলকাতায় গিয়ে লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করাতাম। এখন বয়স হয়েছে। আর কলকাতায় গিয়ে লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করানোর মতো শারীরিক ক্ষমতা নেই। ২০১৪ সালে শেষবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে গিয়ে লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করিয়েছিলাম। মার্চ মাসে আমার লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরিয়েছে। তারপর থেকে এখানে আর শিবির হয়নি। ফলে আমিও লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করাতে পারিনি। একই অবস্থা হাকিমপাড়ার স্বপন দে, মন্টু দত্তর। তাঁদেরও লাইসেন্সের মেয়াদ বেশ কয়েকমাস আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু শিবির না হওয়ায় তাঁরা লাইসেন্স রিনিউ করাতে পারছেন না।

- Advertisement -

বিসিডিএ-র দার্জিলিং জেলা সম্পাদক বিজয় গুপ্তা বলেন, কয়েক বছর ধরেই ফার্মাসি লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে নিয়মিত শিবির হচ্ছে না। ফলে সময় পেরিযে গেলেও ফার্মাসিস্টরা লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করাতে পারছেন না। এর ফলে আমাদেরও ব্যবসার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। ফোসিনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিবির না হওয়ায় উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীরা ফার্মাসি লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করাতে পারছেন না। আমরা বারবার ফার্মাসি কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েছি। তাতে কাজ হয়নি। এর পরেই আমরা বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছি।