দেড় বছর ধরে চিকিৎসক নেই, ওযুধ দেন ফার্মাসিস্ট

408

দিনহাটা : প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসা পরিসেবা দেওয়ার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে সেখানে কোনও চিকিৎসক নেই। রোজ কয়েকশো মানুষের চিকিৎসা করছেন একজন ফার্মাসিস্ট। দিনহাটার ওকরাবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা আসা রোগীরা এনিয়ে বেশ চিন্তায় রয়েছেন।  জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর অবশ্য ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

দিনহাটা ১ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ওকরাবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গত দেড় বছর থেকে চিকিৎসক নেই। অথচ গিতালদহ ও ওকরাবাড়ি সহ বিস্তীর্ণ এলাকার দুস্থ মানুষ চিকিৎসা পেতে সেখানেই যান। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে চিকিৎসক না থাকায় কয়েকশো রোগীর চিকিৎসা করছেন একজন ফার্মাসিস্ট। রোগীরা এনিয়ে কিছুটা আতঙ্কিত । স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে চিকিৎসক থাকবার কথা ১ জন, ফার্মাসিস্ট ২ জন, নার্স ৪ জন এবং গ্রুপ ডি ৩ জন। কিন্তু বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছেন শুধুমাত্র ১ জন ফার্মাসিস্ট, ১ জন নার্স। দৈনিক সেখানে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী আসেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা রুস্তম আলি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। নানা প্রতিকূলতার কারণে আমরা দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে  যেতে পারি না।  কিন্তু গত দেড় বছর ধরে এখানে কোনও চিকিৎসক নেই। ফার্মাসিস্টের হাতেই আমাদের বাঁচা-মরা নির্ভর করছে।’ অপর রোগী হাফেজা বিবি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রই ভরসা। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় ফার্মাসিস্ট আমাদের ওষুধপত্র দেন। এতে ভুল কিছু হলে তার দায় কে নেবে ?

- Advertisement -

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট দীপক কুমার বর্মন অবশ্য বলেন, ‘আমি জানি যে আমার কাজ ওষুধ দেওয়া। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় দেড় বছর ধরে বাধ্য হয়ে আমাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালাতে হচ্ছে। ভয় নিয়েই আমি দিনের পর দিন রোগীর ভিড় সামলাচ্ছি।’

বিষয়টি সম্পর্কে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘জেলার প্রত্যন্ত  এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলিতে চিকিৎসক থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। জেলায় চিকিৎসক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি স্বাভাবিক হলেই অন্যান্য পিএইচসি-র পাশাপাশি সেখানেও চিকিৎসক পাঠানো হবে।’

ছবি- ওকারাবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী দেখছেন ফার্মাসিস্ট।

ছবি ও তথ্য- পার্থসারথি রায়