ডাক্তার তুলে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী ভরতি বন্ধ করা হল

405

ময়নাগুড়ি : চিকিৎসকের অভাবে ময়নাগুড়ি ব্লকের ভুরঙ্গেরবাড়ি প্রাথামিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী ভরতি বন্ধ করে দেওয়া হল। এখন থেকে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সপ্তাহে ছয়দিন শুধুমাত্র বহির্বিভাগে পরিসেবা দেওয়া হবে। ফলে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ৷ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী ভরতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে ডান-বাম সব মহল৷ ময়নাগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক লাকি দেওয়ান বলেন, চিকিৎসক সংখ্যা কম থাকায় আপাতত ভুরঙ্গেরবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনডোর পরিসেবা বন্ধ করা হয়েছে৷ চিকিসকের ঘাটতি মিটলে পরিসেবা স্বাভাবিক করা হবে। ময়নাগুড়ি ব্লকে গ্রামীণ হাসপাতাল বাদ দিয়ে মোট ভুরঙ্গেরবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থকেন্দ্র, চুড়াভান্ডার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বার্নিশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সিঙ্গিমারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, রামশাই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সাপ্টিবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে৷ এগুলিতে আগে রোগীদের ভরতি রেখে দিনরাত চিকিৎসা পরিসেবা দেওয়া হত। চিকিৎসকের অভাবে আগেই সিঙ্গিমারি,  বার্নিশ, রামশাই এবং সাপ্টিবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী ভরতি বন্ধ করে দিয়ে শুধুমাত্র সপ্তাহে ছয়দিন আউটডোর পরিসেবা চালু আছে। চব্বিশ ঘণ্টা পরিসেবা দেওয়া হত ভুরঙ্গেরবাড়ি এবং চুড়াভান্ডার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে৷ এবার ভুরঙ্গেরবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও চিকিৎসক এবং নার্সদের তুলে নিয়ে রোগী ভরতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ এবার থেকে একজন চিকিৎসক এবং দু জন নার্স দিয়ে সপ্তাহে ছয়দিন শুধুমাত্র আউটডোর পরিসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এতদিন ভুরঙ্গেরবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২ জন চিকিৎসক, ৪ জন নার্স এবং ৫ জন কর্মী ছিলেন।  রোগী ভরতির জন্য এখানে ১০টি বেড রয়েছে। শনিবার থেকে ভুরঙ্গেরবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১ জন চিকিৎসক ও ২ জন নার্সকে তুলে নেওয়া হয়৷ বাকি ১ জন চিকিৎসক ২ জন নার্স দিয়ে সপ্তাহে ছয় দিন আউটডোর পরিসেবা দেওয়ার পাশাপাশি ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালেও তাঁদের ব্যবহার করানো হবে। এদিন ১ জন চিকিৎসক এবং ২ জন নার্স দিয়ে আউটডোর পরিসেবা স্বাভাবিক রাখা হয়েছিল। তবে, আউটডোর পরিসেবা বন্ধ হয়ে যেতেই জরুরি পরিসেবার জন্য আসা বেশ কয়েকজন রোগী চিকিৎসা করানোর জন্য এসে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ দেখে ফিরে যান।

- Advertisement -

ভুরঙ্গেরবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জোরপাকড়ি, বাকালি, রাজারহাট এলাকার প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ নির্ভরশীল। প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন।  এবার ইনডোর পরিসেবা বন্ধ হওয়ায় রোগীদের ২০ কিলোমিটার দূরে ময়নাগুড়ি হাসপাতাল কিংবা ৩০ কিলোমিটার দূরে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যেতে হবে৷

ময়নাগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ময়নাগুড়ি গ্রামীন হাসপাতাল এবং প্রাথমিক স্বাস্থকেন্দ্র গুলো চালানোর জন্য মোট ১৮ জন চিকিসক দরকার। কিন্তু মাত্র ১০ জন চিকিৎসকদিয়ে পরিসেবা চালানো হচ্ছিল। এরমধ্যে একসঙ্গে তিন জন চিকিৎসক চলে গিয়েছেন৷ ফলে ময়নাগুড়ি হাসপাতালের পরিসেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি থেকে চিকিৎসকদের নিয়ে আসা হয়েছে। আপাতত ভুরঙ্গেরবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ইনডোর পরিসেবা বন্ধ করা হয়েছে৷

এই এলাকার বাসিন্দা তথা সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য জ্যোতিপ্রকাশ ঘোষ বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ অসহায় অবস্থায় পড়ে গেলেন পরিসেবা বন্ধ হওয়ার জন্য।  এর বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে।’

জোরপাকড়ির বাসিন্দা তথা ময়নাগুড়ি ২ নাম্বার ব্লক তৃনমুলের সভাপতি শিবশঙ্কর দত্ত জানান, ‘চিকিৎসক তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের বীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। দিনরাতের পরিসেবা বন্ধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই ব্যাপারে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আন্দোলন হবে।’

ছবি : প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইনডোর বিভাগে তালা লাগানো।

তথ্য ও ছবি : অভিরূপ দে