টাকার বিনিময়ে পান পিএইচডি ও ডি-লিট

1123

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি, ২৮ এপ্রিল : কোর্স-ওয়ার্ক লাগবে না। গবেষণাপত্রও জমা করতে হবে না। পিএইচডি ও ডি-লিটের মতো সর্বোচ্চ ডিগ্রি উপার্জন করার জন্য বহু পড়াশোনা করতে হলেও আর তার প্রয়োজন নেই। স্রেফ টাকা দিলেই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসব অনায়াসেই মিলে যাবে।

এমনটাই জানিয়ে বেঙ্গালুরু, নয়াদিল্লির মতো কিছু জায়গা থেকে সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিঠি আসা শুরু হয়েছে। মূলত শিক্ষাবিদদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। এ নিয়ে জলপাইগুড়ির শিক্ষাবিদরা সরব হয়েছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-তে চিঠি পাঠানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দিলীপকুমার সরকার বলেন, টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রবণতা অনেকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি প্রতারক সংস্থা এ নিয়ে রীতিমতো ব্যবসা খুলে বসেছে। এই সংস্থাগুলির পাল্লায় পড়ে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। তিনি জানান, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এমন ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে তা যাচাই করলে আগেভাগে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ থাকলেও অনেকেই তা করেন না। এ বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে এর আগে মাধ্যমিক থেকে শুরু করে বিএড ডিগ্রির ক্ষেত্রে জালিয়াতি চক্রের কারবার সামনে এসেছে। এবারে তাতে পিএইচডি ও ডি-লিটের মতো সর্বোচ্চ ডিগ্রি যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি অন্যমাত্রা পেয়েছে। কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে পিএইচডি ও ডি-লিটের মতো সর্বোচ্চ ডিগ্রি মিলবে বলে দক্ষিণ ভারত, নয়াদিল্লিতে গজিয়ে ওঠা কিছু সংস্থা থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির প্রধানদের নামে এই চিঠি পাঠানো হচ্ছে। পিএইচডি বা ডি-লিটের মতো সর্বোচ্চ ডিগ্রি থাকলে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেকটাই বাড়ে। পাশাপাশি, কর্মক্ষেত্রে উন্নতিও হয়। অভিযোগ, এ কারণেই শিক্ষক, অধ্যাপকদের এভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।

জলপাইগুড়ি শহরের ফণীন্দ্রদেব ইনস্টিটিউশন থেকে শুরু করে আনন্দচন্দ্র কলেজ অফ কমার্স, পি ডি উইমেন্স কলেজ সহ একাধিক শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই শিক্ষক, অধ্যাপকদের নামে বেশ কয়েকবার এ ধরনের চিঠি এসেছে। তাঁদের কলেজে বহুদিন ধরেই এ ধরনের চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে পি ডি উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ তথা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শান্তি ছেত্রী স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কেবলমাত্র সরকার অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ই এ ধরনের ডিগ্রি দিতে পারে বলে আমরা এ ধরনের চিঠিকে কোনো গুরুত্ব দিই না। ফণীন্দ্রদেব ইনস্টিটিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ধীরেন ঝম্পটি বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে এটিকে জাল বলেই আমাদের মনে হয়েছে।

আনন্দচন্দ্র কলেজ অফ কমার্সের অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ সরকার বলেন, বিদেশি যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে এই পিএইচডি ও ডিলিটের মতো সর্বোচ্চ ডিগ্রি মিলবে বলে সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কোনো অনুমোদন রয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির আদৌ কোনো অস্তিত্ব আছে কিনা বলেও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। সিদ্ধার্থবাবু বলেন, এই ধরনের কার্যকলাপ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামগ্রিকভাবে পঙ্গু করে দিতে পারে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইউজিসি-কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ডিগ্রি ভারতে বৈধ কিনা তা দেখতে হবে।