বীরপাড়া : দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের পরিসেবা বেহাল। তা স্বাভাবিক করতে বীরপাড়ার পানীয় জলের প্রকল্পটির বিভিন্ন পাইপলাইন পালটে ফেলার কাজ শুরু করেছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর। আর তা নিয়েই গোলমাল শুরু হয়েছে বীরপাড়ায়। অভিযোগ, পানীয় জলের নতুন পাইপলাইন বসানো হচ্ছে নিকাশি নালার ভেতর দিয়ে। সারদাপল্লি ও সুভাষপল্লি এলাকায় পাইপলাইন ইতিমধ্যেই বসানো হয়েছে নিকাশি নালার ভিতর দিয়ে।

বীরপাড়ার পানীয় জলের প্রকল্পটি প্রায় চার দশক আগে তৈরি করা হয়। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণত এ ধরনের প্রকল্পগুলির মেয়াদ থাকে কমবেশি পঁচিশ বছর। স্বাভাবিকভাবেই, বীরপাড়ার প্রকল্পটির বিভিন্ন জায়গায় ত্রুটি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বীরপাড়ার বেশিরভাগ কলেই জল মেলে না। অনেক জায়গায় পাইপলাইন ফুটো হয়ে গিয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর জানিয়েছে, বীরপাড়ায় জলের  পাইপলাইন থেকে প্রচুর অবৈধ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। পাম্পের সাহায্যে  বেআইনিভাবে জল বাড়িতে টেনে নেওয়ায় কলে জল মিলছে না। এছাড়া, রাস্তাঘাট  মেরামতের ফলে বহু জায়গায় পাইপলাইন মাটির অনেক নিচে চলে গিয়েছে। তাই বেশ কিছু জায়গায় নতুন পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে।

বীরপাড়ার সারদাপল্লির বাসিন্দা গোলু মিত্র বলেন, ‘নিকাশি নালার ভেতর দিয়ে পানীয় জলের পাইপলাইন বসানোর বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না। এতে, পানীয় জল ভীষণভাবে দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ বীরপাড়ার দেবীগড়ের বাসিন্দা মনোজ গুহ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের প্রকল্পটি ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়ে আসছি। তবে, এমনভাবে মেরামতের কথা ভাবিনি। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের বাস্তুকারকে আপত্তির কথা জানিয়েছি। এভাবে পাইপলাইন বসানো হলে অচিরেই পানীয় জল থেকে সংক্রামক রোগ ছড়াবে।’

জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের আলিপুরদুয়ারের নির্বাহী বাস্তুকার সুব্রত ধর বলেন, ‘এলাকাবাসীর বুঝতে ভুল হয়েছে। বর্তমানে পাইপলাইন জোড়া দেওয়ার কাজ  চলছে। পরে, রাস্তার পাশে ক্ল্যাম্প লাগিয়ে পাইপলাইনগুলি ওপরে তুলে দেওয়া হবে।’

ছবি – নিকাশিনালায় এভাবে  পাইপলাইন বসানো নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বীরপাড়ায়।

তথ্য ও ছবি –  মোস্তাক মোরশেদ হোসেন