আয়রনযুক্ত জল নদীতে জমিতে ফেলছে পিএইচই, বিপদে গ্রামবাসীরা

294

রাজগঞ্জ : রাজগঞ্জে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের (পিএইচই) জল প্রকল্পের আযরনযুক্ত বর্জ্য জল সরাসরি ফেলা হচ্ছে জমিতে বা নদীতে। এতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বাস্তুতন্ত্রের। এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় রিজার্ভার এবং আয়রন এলিমিনেশন প্ল্যান্ট সাফাই করা জল এভাবে নদীতে ফেলার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন দপ্তরের আধিকারিকরা।

রাজগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পিএইচইর পানীয জল প্রকল্প রয়েছে। বিন্নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে আমবাড়ি-ফালাকাটা জল প্রকল্প রয়েছে গধেয়াগছে। ওই প্রকল্পের আয়রন এলিমিনেশন প্ল্যান্ট সাফাই করা কয়েক হাজার লিটার ওই বর্জ্য জল সরাসরি ফেলা হয ভুটকি নদীতে। জানা গিয়েছে, দু-দিন পরপর ওই জল নদীতে ফেলা হয়। বর্ষাকালে নদীতে জল বেশি থাকায় বিষয়টি লোকের নজরে না পড়লেও শুখা মরশুমে নদীর জল হলুদ রং হয়ে যায়। এছাড়া যেসব জল প্রকল্পের কাছে নদী নেই, সেখানে জমিতেই ওই আয়রনযুক্ত জল ফেলে দেওয়া হয়।

- Advertisement -

ভুটকিরহাট এলাকার বাসিন্দা অজিত দত্ত বলেন, ‘আমি দেখেছি আযরনযুক্ত জল নদীতে ফেলা হয়। ওই জল এলাকার মানুষ নানা কাজে ব্যবহার করেন। গ্রামের গৃহপালিত পশুরাও ওই নদীর জল খায়। এতে গ্রামের মানুষ ও প্রাণীদের সকলের ক্ষতি হচ্ছে। পিএইচই-র ওই জল নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা উচিত। বিন্নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শশীচন্দ্র রায় বলেন, ‘আযরনযুক্ত জল এভাবে নদী বা জমিতে ফেলা ঠিক হচ্ছে না। আমি বিষযটি সম্পর্কে খোঁজ নিযে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’

পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ন্যাফ-এর কোঅর্ডিনেটর অনিমেষ বসু বলেন, ওই আযরনযুক্ত জল এভাবে সরাসরি নদীতে ফেলা ঠিক নয়। এতে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর ক্ষতি হয়। ওই জল গবাদিপ্রাণী ও পশুপাখি খেলে তাদের ক্ষতি হবে। যেখানে ওই জল চাষের জমিতে ফেলা হয়, সেক্ষেত্রেও ফসল ও মাটির ক্ষতি হয়। এতে বাস্তুতন্ত্রের উপর প্রভাব পড়ে। এভাবে না ফেলে একটি পুকুর করে সেখানে ওই জল ফেলা উচিত।

পিএইচইর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিযার রাজু ভদ্র বলেন, ‘এব্যাপারে দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিযার বলতে পারেন। তবে ওই আযরনযুক্ত জল পুকুর করে ফেলার এখনও পরিকল্পনা নেই। এছাড়া ওই জল যে এভাবে ফেলা যাবে না, সে ব্যাপারে দূষণ নিযন্ত্রণ পর্ষদ থেকে কোনো গাইডলাইন দেওয়া হয়নি।

ছবি- রাজগঞ্জের ভুটকি নদীতে ফেলা হয় পিএইচইর আযরনযুক্ত জল।

তথ্য ও ছবি – রণজিৎ বিশ্বাস