করোনা পরিস্থিতিতে জমি পেতে সমস্যা, বিডিও অফিস চত্বরেই তৈরি হচ্ছে পিএইচইর পাম্প হাউস

261

ফালাকাটা: আনলক-১ শুরু হওয়ার পর ফালাকাটায় জোরকদমে চলছে পানীয় জল প্রকল্পের কাজ। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের (পিএইচই) তিনটি রিজার্ভারের পাশাপাশি পাইপ লাইন ও কয়েকটি পাম্প হাউসের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এখনও কিছু পাম্প হাউসের জন্য নির্দিষ্ট জমি পেতে সমস্যা হচ্ছে।

প্রশাসন করোনা পরিস্থিতিতে জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগও পাচ্ছে না। এই অবস্থায় জল প্রকল্পের কাজ শেষ করতে যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য ফালাকাটা বিডিও অফিস চত্বরে সরকারি জমিতেই একটি পাম্প হাউসের কাজ শুরু হয়েছে। বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, ‘শহর এলাকায় দুটি পাম্প হাউস তৈরি হবে। করোনা পরিস্থিতিতে প্রাইভেট জমি পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রকল্পের কাজে যাতে বিলম্ব না হয় সেজন্য আমরা জমি দিয়েছি। আরেকটি পাম্প হাউসের জন্যও জমি খোঁজা হচ্ছে।’

- Advertisement -

কয়েক বছর থেকে ফালাকাটায় পানীয় জলের সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বাবুপাড়ায় একটি বহু পুরোনো পিএইচই-র রিজার্ভারে সাড়ে তিন লক্ষ লিটার জল ধারণের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু লোকসংখ্যা এখন অনেক বেড়ে গিয়েছে। পাইপলাইনও অনেক পুরোনো। দেড় বছর আগে বীরপাড়া থেকে ফালাকাটা অবধি এশিয়ান হাইওয়ে তৈরি হয়। সড়ক সম্প্রসারণের জেরে বিভিন্ন জায়গায় পাইপ ভেঙে যাওয়ায় পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়। তাই গত লোকসভা ভোটের আগে তড়িঘড়ি ফালাকাটায় পিএইচই-র তিনটি জল প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়।

এই তিনটি প্রকল্পের জন্য ১৭ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। এই টাকায় তিনটি রিজার্ভার,পাম্প হাউস, ট্যাপকল ও জলের পাইপ লাইন তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ টালবাহানায় প্রকল্পের কাজ শুরু হতে দেরি হয়। শেষে গত দুর্গাপুজোর পর রিজার্ভারগুলির কাজ শুরু হয়। এদিকে লকডাউনের জেরে প্রায় আড়াই মাস কাজ বন্ধ থাকে। সম্প্রতি নানা জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু পাম্প হাউসের জন্য জমি পেতে সমস্যা হওয়ায় বিপাকে পড়েছে প্রশাসন।

তিনটির মধ্যে সব চেয়ে বড় রিজার্ভারটি তৈরি হচ্ছে সুভাষ কলোনিতে। এটির জল ধারণ ক্ষমতা ৯ লক্ষ লিটার। বাকি কলেজপাড়া ও চুয়াখোলার রিজার্ভার দুটির জল ধারণ ক্ষমতা হবে সাড়ে পাঁচ লক্ষ লিটার। পুরোনো ও নতুন রিজার্ভারগুলির জন্য সাতটি পাম্প হাউস তৈরি হবে। কিন্তু জমি পেতে সমস্যা হওয়ায় পাম্প হাউসের কাজ শুরু করা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। যদিও জমির সমস্যার কথা সরাসরি মানতে চায়নি পিএইচই।

দপ্তরের আলিপুরদুয়ারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন, ‘রিজার্ভারের কিছু কাজ শুরু হয়েছে। পাইপ লাইন ও পাম্প হাউসের কাজও চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কিছু শেষ করার চেষ্টা চলছে। সাতটি পাম্প হাউস তৈরি হবে। তারমধ্যে একটি পাম্প হাউসের জায়গা ছাড়া বাকিগুলির ক্ষেত্রে সেরকম সমস্যা নেই। বিডিও অফিস চত্বরে একটি পাম্প হাউসের কাজ চলছে।’