বন্ধ ব্যবসা, বিপাকে দিনহাটার ফুচকা পাড়ার বাসিন্দারা

270

দিনহাটা: খাদ্য রসিক বাঙালিদের একটি অন্যতম মুখরোচক খাবার ফুচকা। কখনও টক-ঝাল জলের সঙ্গে, কখনও দই দিয়ে ফুচকা, অনেকেই আবার শুধু ফুচকা দিয়ে চুরমুর চাট খেতেই বেশি পছন্দ করেন। এক কথায় আট থেকে আশি সকলেরই পছন্দের খাবার এই ফুচকা। আর সে কারণেই শহরে ফুলদিঘি পার্ক, বোর্ডিংপাড়া মোড়, সংহতি ময়দানের মতো এলাকাগুলি ছাড়াও একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এই ফুচকা বিক্রেতারা ভিড় জমান। আর তাঁদের ঘিরে থাকে একাধিক কচিকাচার মুখ থেকে ভেসে আসে ফ্রি ফুচকার আবদার।

কিন্তু করোনা আগমনের পর থেকে পালটে গিয়েছে সবকিছু। দীর্ঘ পাঁচমাস ধরে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। এর ফলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দোকান নিয়ে বসা একাধিক ফুচকা বিক্রেতা বিপাকে পড়েছেন।

- Advertisement -

অন্যদিকে, প্রশাসনের নিয়মের কড়াকড়ি থাকায় এখন মহকুমায় ঘটা করে বিয়ের অনুষ্ঠানও নেই যার ফলে সেখান থেকে কোনও অর্ডার পাচ্ছেন না তাঁরা। তাই একমাত্র জীবিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আধপেটা খেয়ে দিন কাটছে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের।

দিনহাটা শহর সংলগ্ন বড়োনাচিনা শ্মশান কালিবাড়ি এলাকার ফুচকা পাড়ায় গিয়ে দেখা গেল অধিকাংশ বাড়িতে পড়ে রয়েছে ফুচকার গাড়ি, কিন্তু তাতে নেই ফুচকা ভর্তি বাক্স। আর অনেকদিন থেকে গাড়িগুলি বসে থাকায় কোনও গাড়িতে আগাছা জন্মেছে তো কোনও গাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে রয়েছে।

এই রকমই এক পরিবারের সদস্য আলো রায় জানান স্বামী ও ছেলের দুটো ফুচকার গাড়ি রয়েছে যেগুলি স্কুলের সামনে বসে বিকিকিনি করে। কিন্তু গত পাঁচমাসেরও বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে যার ফলে গাড়ি আর বের হয়নি। আর একমাত্র জীবিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার টানতে হিমশিম অবস্থা। অন্যদিকে, তাঁর কাছে পুরোনো কার্ড থাকায় র‍্যাশনও পাচ্ছেন না। অগত্যা মেয়েরা সাহায্য করায় কোনওমতো খেয়ে দিন কাটছে।

তাই প্রশাসন যদি তাঁদের জন্য কোনও সাহায্য করেন তবে ভালো হয়। আরেক বিক্রেতা সুজন দাস জানান, একদিকে স্কুল বন্ধ আরেক দিকে শহরে লকডাউন থাকায় শহরেও প্রবেশ নিষেধ। তাই ফুচকা বিক্রি বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ দিন থেকে। সংসার চালাতে কখনও কখনও ঠিকাদারী শ্রমিকের কাজ করতে হয়। তবে সেটাও নিয়মিত নয়।

ফুচকা বিক্রেতা বিনয় দাসেরও একই বক্তব্য। তবে তিনি জানান, লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ায় তাঁরা আশার আলো দেখেছিল। তবে অনেকেই সংক্রমণের ভয়ে ফুচকা গাড়ির কাছে আসতে চায় না। তাই প্রশাসন যদি অসময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত তবে খুব উপকার হত। তবে বিনয়বাবুদের আশা পৃথিবী দ্রুত সুস্থ হবে আবার তাদের ফুচকার গাড়ি রাজপথে বের হবে এবং তাদের ঘিরে ধরে ফুচকা চাইবে কচিকাচার হাতগুলি।