শিলিগুড়ি কলেজের ফেসবুক পেজে যুবতীদের ছবি, অন্য কলেজের নোটিশ

814

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক চলাকালীনই ফের নতুন বিতর্কের মুখে শিলিগুড়ি কলেজ। কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া ফেসবুক পেজে বেসরকারি কলেজের নোটিশ ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই ফেসবুক পেজে কলেজের অফিশিয়াল তথ্য দেওয়ার বদলে বিভিন্ন যুবতীর ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। ওই পেজে যে মোবাইল নম্বর দেওয়া রয়েছে সেটিও ভুয়ো। অপরদিকে, একই নামে ফেসবুকে আরও একটি পেজ তৈরি করা হয়েছে। কলেজের নামে সেই পেজ চালাচ্ছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)। সেই পেজে কলেজের ভর্তি সংক্রান্ত এবং তাঁর বাইরে কলেজের সমস্ত সিদ্ধান্ত আপলোড করা হচ্ছে। সমস্ত পোস্টের শেষে লেখা থাকছে শিলিগুড়ি কলেজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। পাশাপাশি পেজে কলেজের ওয়েসাইট এবং ল্যান্ডলাইন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মহলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। একের পর এক বিতর্কের পরেও কেন কলেজ কর্তৃপক্ষ এই সমস্ত বিষয়ে নজর দিচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি নির্ণয় সরকার বলেন, আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখছি।

শিলিগুড়ি কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। কলেজের ওয়েবসাইটের বদলে আসন সংরক্ষণের তালিকা কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি জয়ন্ত কর এবং টিএমসিপির সমর্থকদের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এবার একধাপ এগিয়ে কলেজের নামে আস্ত একটা পেজ তৈরি করেই নিজেদের প্রচার করছে টিএমসিপি। ওই পেজে কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কলেজের সমস্তরকম নোটিশও পোস্ট করা হচ্ছে। প্রতিটি ছবি, নোটিশ এবং পোস্টের নীচে লেখা থাকছে টিএমসিপি। প্রচুর ছাত্রছাত্রী কলেজের নিজস্ব পেজ মনে করে ওই পেজ লাইক করে সেখানে বিভিন্ন তথ্য জানতেও চাইছেন। ওই পেজের লাইক রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার। সেখানে কলেজের ওয়েবসাইটে দেওয়া ফেসবুক পেজের লাইক মাত্র ৩,৪৬২। চলতি বছরের ২২ জুলাই কলেজের নিজস্ব পেজে শেষ ভর্তি সংক্রান্ত পোস্ট হয়েছিল। তবে সেই পোস্ট ছিল একটি বেসরকারি কলেজের ভর্তির নোটিশ। কলেজের অফিশিয়াল পেজের এই হাল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আদৌ কি এই পেজ কলেজ কর্তৃপক্ষ দেখাশোনা করে? যদি করে তবে এই অবস্থা কেন? আর যদি কলেজের নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়ে থাকে তবে তা নিয়ে পুলিশে কেন অভিযোগ দায়ের হয়নি? দার্জিলিং জেলা এসএফআইয়ে সম্পাদক শংকর মজুমদার বলেন, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে এসব করে আসছে। কলেজের ওয়েবসাইটের বদলে টিএমসিপির ফেসবুক পেজে কলেজের সমস্ত তথ্য, অফিশিয়াল চিঠি আপলোড হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা সাইবার ক্রাইম থানায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ জানাব। শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ সুজিত ঘোষ বলেন, কলেজের তো কোনো ফেসবুক পেজ নেই। আমি এবিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

- Advertisement -