থুতনিতেই মাস্ক, ভাইরাস নয়, ভয় ক্যামেরা-পুলিশে

187

বীরপাড়া: স্পষ্টতই ভয়টা ভাইরাসকে নিয়ে নয়। ভয়টা যেন শুধু সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা আর পুলিশকে নিয়ে। বাজারে গিজগিজ করছে ভিড়। স্যোশ্যাল ডিসট্যান্স তো দূরের কথা, মাস্ক পরা নিয়েও সচেতনতা নেই। অনেকেরই থুতনিতে ঝুলছে মাস্ক। কারও আবার পকেটে। পুলিশ আর সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখলে তড়িঘড়ি মাস্ক দিয়ে ঢাকা হচ্ছে মুখ। বুধবারও আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার দৈনিক বাজারে দেখা গেল এই দৃশ্য।

মঙ্গলবারই বীরপাড়ার লালপুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এক মহিলা কোভিডের বলি হয়েছেন বলে ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর। তবে বুধবার বীরপাড়ার দিনবাজারে তাঁর বিন্দুমাত্র আঁচ পড়েনি বলেই বোঝা গেল। অথচ, মঙ্গলবার পর্যন্ত গোটা ব্লকে কোভিডে আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছেন ১৫৫ জন। এদের মধ্যে ৩ জন তপসীখাতার কোভিড হাসপাতালে ও ১০ জন সেফ হোমে রয়েছেন। বাকিরা হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

- Advertisement -

বুধবার বীরপাড়ার দিনবাজারে গিয়ে দেখা গিয়েছে, অনেকের মুখেই মাস্ক নেই। প্রশ্ন করতেই তড়িঘড়ি পকেট থেকে মাস্ক বের করে মুখ ঢাকলেন এক মাছ বিক্রেতা। তাঁর বক্তব্য, ‘আসলে মাস্ক পকেটে রাখা ছিল। মাস্ক পরলে আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তবে এটা ভুল হয়েছে।’ সবজি বাজারেও দেখা গিয়েছে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েরই মুখের বদলে থুতনিতে ঝুলছে মাস্ক। ক্যামেরা দেখে তড়িঘড়ি মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকলেন কেউ কেউ। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজারে পুলিশকে দেখলে তবেই মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকেন অনেকেই। আসলে সচেতনতার অভাবেই মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব এখনও পর্যন্ত অনুধাবন করতে পারেননি।

মাদারিহাটের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক দ্যেবজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, ‘এসময় মাস্ক অপরিহার্য। কারণ মাস্ক না পরলে সংক্রমণের সম্ভাবনা তিনগুণ বেড়ে যায়। লাগাতার প্রচারাভিযান চালানো সত্বেও যদি সচেতনতা না বাড়ে তাহলে মুশকিল।’ মাদারিহাটের বিডিও শ্যারণ তামাং বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন লাগাতার নজরদারি চালাচ্ছে।’