৩০ হাজারের গণ্ডি পেরল সংক্রামিতের সংখ্যা, অসচেতনতার ছবি পশ্চিম বর্ধমানে

62

আসানসোল: করোনার সংক্রমণে কিছুতেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় করোনায় আক্রান্তর সংখ্যা সোমবার ৩০ হাজারের গণ্ডি পার করল। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই। জেলায় এই মুহুর্তে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৬,৮৩৫ জন। জেলায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৯৮ জনের। অন্যদিকে, করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন রূপনারায়নপুরের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন সেন্ট যোশেফ কনভেন্ট স্কুলের কর্মী রাকেশ প্রসাদ। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৭ বছর। তিনি এই স্কুলের সিবিএসই বিভাগের অ্যাকাউন্টেন্ট ছিলেন। পদে তিনি অ্যাকাউন্টেন্ট হলেও এক কথায় তিনি ছিলেন এই স্কুলের প্রাণ। তার স্ত্রী ও দুই কন্যা আছে।

জানা গিয়েছে, গত ২৮ এপ্রিল রাতে রাকেশ প্রসাদকে দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছিল শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে। সেখান থেকে ফোনে তিনি স্কুলের অন্যান্যদের জানাতেন কিভাবে পাশের বেডের কেউ কেউ হঠাৎ করে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে মারা যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি কখনও ভেঙে পড়েন নি। তিনি অবশ্য নিজে বড় রকম কোনও অসুবিধার অনুভব করেন নি। কিন্তু সেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন রবিবার সকালের পরে তার অক্সিজেনের মাত্রা অস্বাভাবিক কমে যায়। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টাকে বিফল করে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।

- Advertisement -

এমন পরিস্থিতির পরেও আসানসোল শহরে বিশেষ করে জিটি রোড লাগোয়া বাজারে সোমবার অসচেতনতার ছবি দেখা গেল। বাজারে আসা অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। অনেকের থাকলেও তা ঝুলছে কানে ও থুতনিতে। সামাজিক দূরত্বের কথা কেউ যে জানে, তা এদিনের বাজার ছবি দেখে বোঝা মুশকিল। তবে আসানসোল বাজারের মতো ছবি যেসব জায়গায় দেখা যাচ্ছে, এমনটা নয়। রাজ্য সরকারের নির্দেশ থাকায় বাজার হাট ও বড় দোকান সারাদিনে ৫ ঘণ্টা খুলছে। বেশকিছু জিনিসের ছাড় দেওয়ায় পাড়ায় পাড়ায় সেসব দোকান খুলছে। আসানসোল শিল্পাঞ্চলে গত ১ মে থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাতায়াতে কিছুটা লাগাম রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ও করোনা বিধি মেনে চলতে বারবার বলা হচ্ছে।