নেতাজির স্মৃতিধন্য জায়গায় নেশার ঠেক

জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি শহরে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়কার বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের অধিবেশনের জায়গায় এখন শুযোর চরে বেড়ায়। এই অধিবেশনের জন্য এলাকাকে কংগ্রেসপাড়া বলা হয়। এই এলাকা এখন অবৈধ মদের কারবার এবং নেশার ট্যাবলেটের ঠেক বলে পরিচিত। জায়গাটি প্রাপ্য মর্যাদা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। স্বাধীনতার ইতিহাসে ১৯৩৯ সালের বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের অধিবেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অধিবেশনের এই মঞ্চ থেকেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রধান অতিথি হিসাবে ইংরেজকে ভারত ছাড়ার ডাক দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ইতিহাসে এটি সুভাষচন্দ্রের ঐতিহাসিক ভাষণ হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

জলপাইগুড়ি পুরসভা অধিবেশনের জায়গায় নেতাজির মূর্তি বসানোর পাশাপাশি ওই অধিবেশন সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মকে অবহিত করার ক্ষেত্রে উদ্যোগী হবে বলে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করেনি। ১৯৩৯ সালের তিন থেকে পাঁচ ফেব্রুয়ারি জলপাইগুড়িতে এই অধিবেশন বসেছিল। অধিবেশনে এসেছিলেন শরৎচন্দ্র বসু, ডাঃ সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, আশরাফউদ্দিন চৌধুরী, বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়, লীলা রায়। পান্ডাপাড়ার অধিবেশন মঞ্চেই সুভাষচন্দ্র দ্বিতীয় বারের জন্য কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সংবাদ টেলিগ্রাম মারফত জানতে পেরেছিলেন। এলাকার গুরুত্বের কথা বারবার আলোচিত হলেও জলপাইগুড়ি পুরসভার কোনও বোর্ডই সদর্থক পদক্ষেপ করেনি। বামফ্রন্টের বোর্ড থাকার সময় স্বাধীনতা সংগ্রামী তৎকালীন উপ পুরপ্রধান মুকুলেশ সান্যাল বারবার অধিবেশনস্থলে নেতাজির মূর্তি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু বাম বোর্ড কোনও পদক্ষেপ করেনি। পরবর্তীকালে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বোর্ডও পদক্ষেপ করেনি। পুরপ্রধান পদে মোহন বসু থাকার সময়ে উদ্যোগী হওয়ার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

- Advertisement -

পান্ডাপাড়ার অধিবেশন স্থান এবং সংলগ্ন এলাকায় শুয়োরের পালের আদর্শ বিচরণক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এলাকায় মদের আসর বসে এবং নেশার ট্যাবেলট বিক্রি হয় বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। জলপাইগুড়ি নেতাজি ফাউন্ডেশনের সম্পাদক গোবিন্দ রায় বলেন, এটা দুর্ভাগ্যের, আমরা জলপাইগুড়িতে কংগ্রেস অধিবেশনের জায়গাকে মর্যাদা দিতে পারিনি। পুরসভা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। ইতিহাসবিদ ডঃ আনন্দগোপাল ঘোষ বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে জলপাইগুড়িতে সুভাষচন্দ্রের ভাষণ ঐতিহাসিক দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি তাৎপর্যপূর্ণ। অধিবেশন স্থানে শুয়োরের পাল চরে বেড়ানোর ঘটনা আমাদের পীড়িত করে। পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য সন্দীপ মাহাতো বলেন, পান্ডাপাড়ার ওই জায়গায় নেতাজি মূর্তি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে। জায়গাটির মর্যাদা রক্ষা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।