ময়নাগুড়ি : ময়নাগুড়ি বাজারে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের ঘরে চুটিয়ে শুয়োয়ের খোঁয়াড় চলছে। জমে থাকা আবর্জনার  আড়ালে এই কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। ময়নাগুড়ি বাজারের িতরে সবজি বাজারে এই দোকানঘর নির্মাণ করেছিল জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ। এই বিশাল পাকাঘরটি কোনো ব্যবসায়ীকে দেওয়া হয়নি। তবে, পাশের ঘরগুলিতে ব্যবসায়ীরা দোকান করছেন। এখানেই বহাল তবিয়তে রয়েছে শুয়োররা। চারদিকে আবর্জনার স্তূপে ঢাকা রয়েছে। কাছে গেলেই চরম দুর্গন্ধে গা গুলিয়ে আসে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানে যতখানি জায়গা এবং ঘর রয়েছে তাতে ছোট একটি কমপ্লেক্স অনায়াসে নির্মাণ করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজারের রাস্তা বেদখল করে দোকানদারি মুল প্রবেশপথ আটকে থাকা দোকানঘরগুলি সরিয়ে  সমস্যা  মিটতে পারে অনেকটাই। ময়নাগুড়ি ব্লক কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ ঘোষাল বলেন, ‘এটা আমরা আগে জানতেই পারিনি।এখানে জায়গাটাকে আড়াল করে কয়েকজন শুয়োরের খোঁয়াড় তৈরি করে নিয়েছে। যারা এই ধরনের কাজ করছে তাদের খুঁজে বের করা হোক। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক তাদের বিরুদ্ধে। এখানে অনেক জায়গা রয়েছে।সাজিয়ে গুছিয়ে এখানে কমপ্লেক্স নির্মাণ করলে বাজাজের সমস্যা অনেকটা মিটবে।’ সবজি ব্যবসায়ী পরেশ রায় বলেন, ‘এই ঘরটির পাশেই মাটিতে আমরা সবজি নিয়ে বসে ব্যবসা করি। আবর্জনার স্তূপ ডিঙিয়ে শুয়োরের দল বাইরে চলে আসে।’

ময়নাগুড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহকারী সম্পাদক সুমিত সাহা বলেন, ‘আমরা বাজারে শুয়োর পালনের বিরুদ্ধে এলাকার সকলকে কড়া বার্তা দিয়েছি।আমরা চাই প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।’ ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিবম রায়বসুনিয়া বলেন, ‘এখানে এভাবে শুয়োয়ের খোঁয়াড় চলছে তা জানা ছিল না।অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ময়নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সজল বিশ্বাস বলেন, ‘কারা এই কাজ করছেন সেই বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হবে। এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সঙ্গে কথা বলব। আমরা এর আগে শুয়োয়ের খোঁয়াড় বন্ধ করতে বাজারে অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু এখানে এভাবে শুয়োয়ের খোঁয়াড় চলছে এটা ভাবতেও পারিনি।’   জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে দ্রুত খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

ছবি- জেলা পরিষদের পড়ে থাকা জায়গায় শুয়োর চরছে।

ছবি ও তথ্য- বাণীব্রত চক্রবর্তী।