মাথাভাঙ্গায় খাটাল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় ঘুরছে শুয়োর

272

বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা : পুর এলাকায় শুয়োর পালন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও মাথাভাঙ্গা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পুর আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুয়োর পালন চলছে। প্রতিদিন খাটালগুলি থেকে শুয়োরের পাল দলে দলে বেরিয়ে এসে শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ফলে শহরবাসীর আশঙ্কা, শহরে বিপজ্জনকভাবে শুয়োরের পাল ঘুরে বেড়ানোর ফলে জাপানি এনসেফ্যালাইটিস থাবা বসাতে পারে। আর এই ঘটনায় পুরসভা ও স্বাস্থ্য বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মাথাভাঙ্গা শহরে। বিশেষত খোদ মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালের একশ্রেণির সাফাইকর্মী হাসপাতালের সরকারি আবাসনে শুয়োর পালন করছেন বলে অভিযোগ। পুরসভার সাফাইকর্মীদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ। অথচ মহকুমা হাসপাতাল এবং পুরসভা কর্তৃপক্ষ শুয়োর পালন বন্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। মাথাভাঙ্গা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালের সাফাইকর্মীদের সরকারি আবাসনের পাশাপাশি পুরসভার ১, ৪, ৯ প্রভৃতি ওয়ার্ডেও শুয়োরের খাটাল রয়েছে।

- Advertisement -

পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নীরেন্দ্রনাথ দত্ত, ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজু শা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পরিমল সাহা ও অজিত চক্রবর্তীদের অভিযোগ, প্রতিদিনই শুয়োরের পাল এসে তাঁদের বাড়ির সামনে রাস্তায় মলত্যাগ করে নোংরা করে এলাকা দূষিত করছে। অনেক সময় বাড়ির ভেতরেও ঢুকে যাচ্ছে। মাথাভাঙ্গা শহরে শুয়োর পালনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার ডাঃ অপূর্ব চৌধুরী। তিনি বলেন, জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের অন্যতম বাহক শুয়োর পালন করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি জানান, মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালের সাফাইকর্মীদের সরকারি আবাসনে শুয়োর পালনের বিষয়টি তাঁর নজরে আছে এবং দ্রুত শুয়োর পালন বন্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাথাভাঙ্গা পুরসভার চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিক বলেন, পুর এলাকায় শুয়োর পালন নিষিদ্ধ, এটা জানা সত্ত্বেও একশ্রেণির মানুষ শহরে শুয়োর পালন করছেন। এর আগেও একাধিকবার তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু, তাঁরা শুয়োর পালন করবেন না বলে মুচলেকা দেওয়া সত্ত্বেও প্রতিশ্রুতি রাখেননি। তবে দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।