অভিষেক ঘোষ, মালবাজার : রেল ও পুরসভার দ্বন্দ্বে মাল শহরের মাতঙ্গিনী শিশুশিক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশের উন্নয়ন আটকে রয়েছে। যার ফলে বিপদের মুখে জনা ৫০ শিশুর স্বাস্থ্য। কারণ সীমানাপ্রাচীর না থাকায় ওই শিশুশিক্ষাকেন্দ্র চত্বরে অবাধে শুয়োর চরে বেড়ায়। তার মধ্যেই চলে শিশুদের পঠনপাঠন ও মধ্যাহ্নভোজ। প্রতিদিন শিশুরা এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকলেও হেলদোল নেই প্রশাসনের।

২০০১ সালে রেলের জমিতে কয়েকটি ভাঙা ঘরে মাতঙ্গিনী শিশুশিক্ষাকেন্দ্র চালু হয। রেলের আন্ডারপাস সংলগ্ন এই শিশুশিক্ষাকেন্দ্রে এখন ৫০ জনের বেশি পড়ুয়া রয়েছে। কিন্তু এই শিশুশিক্ষাকেন্দ্রের নেইয়ের তালিকা অনেক বড়ো। এখানে ব্ল্যাকবোর্ড নেই, পড়ুয়াদের বসার জন্য বেঞ্চ নেই। শৌচাগার থাকলেও তার অবস্থা খুবই শোচনীয়। তার উপর পাঁচিল না থাকায় শুয়োর সহ অন্য গবাদিপশু শিশুশিক্ষাকেন্দ্র চত্বরে ঘুরে বেড়ায়। দিনভর শুয়োর ঘোরায় বিরক্ত কেন্দ্রের তিন শিক্ষিকা। তাঁদের আশঙ্কা, এমনিতেই মাল শহরে ডেঙ্গু সহ অন্য পতঙ্গবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তার উপর শিশুদের আশপাশে এভাবে শুয়োর ঘুরলে তারা জাপানি এনসেফ্যালাইটিস সহ অন্য রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

- Advertisement -

কেন্দ্রের সামনের জমিতে শুয়োরের উৎপাতে পড়ুয়ারা খেলতেও পারে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সম্প্রতি পুর কর্তৃপক্ষ মাতঙ্গিনী শিশুশিক্ষাকেন্দ্রকে সীমানাপ্রচীর দিয়ে সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু রেলের বিরোধিতায় সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। নির্মীয়মাণ কিছু অংশ ভেঙে ফেলে রেল। যার ফলে সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। রোগের আশঙ্কা মাথায় নিয়ে পড়াশোনা করছে শিশুরা।

মাতঙ্গিনী শিশুশিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষিকা মিষ্টু দে বলেন, এভাবেই দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এখানে শিশুরা পড়াশোনা করছে। ওদের স্বাস্থ্য নিয়ে একটা চিন্তা থেকেই যায়। কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষিকা শ্যামলী চক্রবর্তী বলেন, সীমানাপ্রাচীর তৈরির জন্য মালবাজার পুরসভার তরফে যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ ওই কাজে বাধা দেয়। আমাদের কেন্দ্রটি পরিকাঠামোগতভাবে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হলে শুয়োরের উপদ্রব থেকে রেহাই মিলবে।

এ প্রসঙ্গে মালবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন দীপা সরকার বলেন, ওই শিশুশিক্ষাকেন্দ্রটি নিয়ে আমরাও চিন্তিত। শীঘ্রই আমরা বিকল্প ব্যবস্থা নেব। যদিও এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সাফ কথা, রেলের জায়গায় বেআইনিভাবে কোনো কাজ করলে, তা রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। রেল ও পুরসভার এই দ্বন্দ্বের আবহে শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কিত শিক্ষিকারা।