হরষিত সিংহ, মালদা : মালদা জেলা পরিবেশ দপ্তরের সামনেই আবর্জনার পাহাড় জমেছে। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীরের ধারেই ইংরেজবাজার পুরসভার সমস্ত নোংরা ফেলা হচ্ছে। এর ফলে দুর্গন্ধের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পেছনের দিকের মাঠে পড়ুয়ারা যেতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, নোংরা সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পুরপ্রধান নীহাররঞ্জন ঘোষ অবশ্য বলেন, যানজটের কারণে নোংরা তোলার গাড়িগুলি নিয়মিত যেতে পারছে না। ফলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পেছনে ফার্মে যাওয়ার রাস্তায় পাশে পাঁচিল বরাবর শহরের সমস্ত নোংরা জমা করা হচ্ছে। পুজোর আগে থেকে নিয়মিত এই রাস্তায় পাশে নোংরা জমা করছে ইংরেজবাজার পুরসভা। বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর থেকে অনেক উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে আবর্জনার পাহাড়। রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ভবন ঠিকমতো দেখাই যাচ্ছে না। এমনকি নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের গা ঘেঁসে নোংরা ফেলায় দুর্গন্ধে ভরে গিয়েছে গোটা এলাকা। পড়ুয়াদের অভিযোগ, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেছনের ফাঁকা মাঠে দুর্গন্ধের জন্য যেতে পারছি না। এমনকি যে রাস্তার পাশে নোংরার পাহাড় তৈরি করা হয়েছে, সেখান দিয়ে পরিবেশ দপ্তর ও সরকারি বেশ কিছু অফিসে যাওয়ার রাস্তা রয়েছে। পরিবেশ দপ্তরের সামনেই আবর্জনার পাহাড় তৈরি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে পরিবেশ দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে। এই বিষয়ে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিরি বলেন, এর আগে বিষয়টি পুরসভাকে জানিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে তরফে আবার নোংরা পরিষ্কারের জন্য পুরসভাকে জানানো হবে।

- Advertisement -

যদিও ওই এলাকায় নোংরা ফেলার অনুমতি জেলা প্রশাসন পুরসভাকে দিয়েছিল বলে দাবি পুরপ্রধানের। তবে তা ছিল সামযিক। পুজোর সময় টানা বর্ষণের জেরে চরম সমস্যায় পড়েছিল পুরসভা। শহরের নোংরা বৃষ্টির জলে আটকে পড়ছিল। জল নিকাশ করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। সেইসময় জেলা প্রশাসনের তরফে কিছুদিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নোংরা ফেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও পুরসভার সমস্ত নোংরা সেখানে নিয়মিত ফেলা হচ্ছে। সেখান থেকে নোংরা পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে নোংরা পরিষ্কার না হওয়ায় শহরের যানজট সমস্যাকেই দাযী করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষ। তিনি বলেন, ওই এলাকায় নোংরা ফেলা হয়েছিল পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। তবে এখন নিয়মিত শহরের ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে যানজট হচ্ছে। যার জেরে নোংরা ফেলার গাড়িগুলি দিনে ১ থেকে ২ বার যাতায়াত করতে পারছে। রাস্তার যানজট না থাকলে গাড়িগুলি ৫-৬ বার যাতায়াত করতে পারবে। ফলে দ্রুত নোংরা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দুর্গাপুজোর আগে মালদা জেলাজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছিল। পুজোর সময় শহর পরিষ্কার রাখতে উদ্যোগী হয় পুর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বৃষ্টির জন্য শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমতে শুরু করে। এছাড়াও নানা সমস্যা দেখা দেয়। সেই সময় মালদা জেলা প্রশাসনের তরফে পুরসভাকে নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে সেই সময়ে জেলাশাসক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সাময়িকভাবে নোংরা ফেলার অনুমতি দেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এখনও ওই এলাকায় নিয়মিত নোংরা ফেলা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এক পড়ুয়া নাসিফ আহমেদ বলেন, পুজোর পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সময় থেকেই একটা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমরা দুর্গন্ধের জেরে পেছনের দিকে যেতে পারছি না। আমাদের খেলার মাঠেও যাওয়া যাচ্ছে না। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিকাশ রায় বলেন, ক্যাম্পাসে দুর্গন্ধ ছড়ানো নিয়ে ছাত্ররা আমাদের কাছে অভিযোগ করছেন।