উত্তরবঙ্গে অর্ধেক দামে আনারস বিক্রি হচ্ছে

সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া : লকডাউনে উত্তরবঙ্গজুড়ে আনারস চাষি এবং ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছিলেন। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরের চাষিরাও একই ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছিলেন। আনলক-১ শুরুর আগে থেকেই অল্প পরিমাণে বিধাননগরের আনারস বাইরে যেতে শুরু করেছিল। তবে কম দামে ফসল বিক্রি করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।

গত বছর গোটা উত্তরবঙ্গে ৬ লক্ষ মেট্রিক টন আনারস উৎপন্ন হয়েছিল। প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছিল। এবারে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ টন আনারসের ব্যবসা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র ৪৫০ কোটি টাকার আনারস বিক্রি হয়েছে। উত্তরবঙ্গ আনারস চাষি সংগঠনের সম্পাদক অরুণ মণ্ডল জানিয়েছেন, লকডাউনের জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ির সাংসদ, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর কাছে চিঠিও জমা দিয়েছেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। ফসল বিমার আওতায় আনারস চাষিদের এখন পর্যন্ত কোনও সুবিধা নেই। অবিলম্বে আনারস চাষিদের ক্ষেত্রেও ফসল বিমা চালু করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গজুড়ে ২০ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বিধাননগরে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এছাড়াও শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া, খড়িবাড়ি, নকশালবাড়িতে আনারস চাষ হচ্ছে। এছাড়াও কোচবিহার, চোপড়া, তপন, নালাগোলা, জলপাইগুড়িতেও ফলন হয়। উত্তরবঙ্গজুড়ে প্রায় ২৩ হাজার আনারস চাষি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ হাজার চাষি বিধাননগরে রয়েছেন। বিধাননগরে মূলত কিউ বা রাজা প্রজাতির আনারস চাষ হয়। কোল্ড স্টোরেজ ছাড়া আনারস মজুত করা সম্ভব নয়। কিন্তু বিধাননগরে কোল্ড স্টোরেজ এখনও চালু হয়নি। অন্য সময়ে ১৫ টাকা প্রতি কেজি দরে এই আনারস বিক্রি হলেও এবার ৮ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। বিধাননগরে প্রায় ১০০টি আড়ত রয়েছে। এখান থেকে আনারস দিল্লি, রাজস্থান, গুজরাট, হরিয়ানা, ওডিশা, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, নেপালে রপ্তানি করা হয়। তবে কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ভিনরাজ্যে আনারস পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত সংস্থার চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার প্রদীপ সিংহ জানিয়েছেন, লকডাউন শিথিল হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে আনারস রপ্তানি শুরু হয়েছে। এরকমই আরেক সংস্থার সভাপতি বাদল সরকার বলেন, লকডাউনের মধ্যে কলকাতা, কৃষ্ণনগর, চন্দননগর, নদিয়াতে প্রায় ২০০টি পিকআপ গাড়িতে প্রায় ৪০০ টন আনারস রপ্তানি করা হয়েছে। এখানকার আনারস মূলত দিল্লিতে রপ্তানি করা হত। কিন্তু করোনার জেরে এবারে তা সম্ভব হয়নি। বিধাননগরের আনারস চাষি গোকুল ঘোষ বলেন, মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৩৭ টন আনারস উত্পাদন হয়েছিল। লকডাউনে প্রায় ২৭ টন আনারস বিক্রি হয়েছে। আরেক আনারস চাষি অজিত দাস বলেন, প্রায় ৪০ টন আনারস ফলেছিল। ২০ টন আনারস ৮ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হলেও, বাকি ২০ টন আনারস জমিতেই নষ্ট হয়েছে।