হাতির হানায় পাইপ ফেটেছে, জল পায় না দুশো পরিবার

364

মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : বছরখানেক আগে পাইপ ফেটেছে, আর তার জেরে পানীয় জল পরিষেবা পাচ্ছেন না নকশালবাড়ি ও মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। পাইপ না সারানোয় প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার জল নষ্ট হচ্ছে। কেন এতদিন পরেও ফাটা পাইপ সারানো হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেটুগাবুরজোত, কিলারামজোত ও রকমজোত এলাকার প্রায় দুশোটি পরিবার। বছর দুয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরকন্যা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের কিলারাম এলাকায় জলপ্রকল্পটির উদ্বোধন করেছিলেন। এর ফলে নকশালবাড়ি ও মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু এলাকায় জলের সমস্যা মিটে যায়। প্রায় এক বছর আগে হাতির হানায় তারাবাড়ি ও কুমারসিংজোত এলাকায় পানীয় জল সরবরাহের পাইপ ফেটে যায়। তারপর থেকে তা আজও মেরামত করা হয়নি। ফাটা অংশ দিয়ে পরিস্রুত জল নালায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে। জলের চাপ না থাকায় কেটুগাবুরজোত, কিলারামজোত ও রকমজোত এলাকার স্ট্যান্ডপোস্টগুলিতে জল পৌঁছাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা তথা নন্দপ্রসাদ হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র সমীর সিংহ জানান, পাম্প অপারেটরকে অভিযোগ করেও পানীয় জলের অপচয় বন্ধ হয়নি। এর ফলে দূরের এলাকাগুলিতে যেমন জল পৌঁছাচ্ছে না, তেমনই ফাটা পাইপ দিয়ে জল বেরিয়ে যাচ্ছে। কুমারসিংজোত এলাকার বাসিন্দা বুথলাল সিংহ জানান, ধানের মরশুমে এলাকায় হাতির উপদ্রব লেগেই থাকে। এর ফলে মাটির ওপরে থাকা পাইপ হাতির পায়ে চাপে ফেটে যায়। আরেক বাসিন্দা জিকু খেরিয়া জানান, তাঁদের এলাকায় বেশিরভাগ বাসিন্দা কৃষক বা শ্রমিক। জল কিনে খাওয়ার ক্ষমতা না থাকায় কুয়োর জলের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। বারবার পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও কোনও লাভ হয়নি বলে জানান তাঁরা। পাম্প অপারেটর ইরফান আলম বলেন, বেশ কয়েক জায়গায় পাইপ ফেটে জলের চাপ কমে যাওয়ায় এমন সমস্যা হয়েছে। আমি বহুবার উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের ঠিক করা ঠিকাদারকে এই বিষয়ে বলেছি, কিন্তু কিছুই হয়নি। পাইপের ফাটা জায়গায় প্লাস্টিক বেঁধে দিয়ে কাজ চালাচ্ছি। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার বিমল দত্ত বলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর বন্ধ থাকায় আমি অফিসে যেতে পারিনি। তবে অফিস খুললেই ইঞ্জিনিয়ারকে বলে দ্রুত পাইপগুলি মেরামত করা হবে। নকশালবাড়ির বিডিও অরিন্দম মণ্ডল বলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রকল্পে আমাদের কিছু করার নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা অভিযোগ পেলে  জেলা শাসকের সঙ্গে আলোচনা করব।