আলিপুরদুয়ারে প্রার্থীপদে নতুন মুখ খুঁজছেন পিকে

811

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে কে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা আসনে দাঁড়াচ্ছেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কৌতূহল ছড়িয়েছে। টিকিটের দাবিদার হিসাবে বর্তমান বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তথা তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে থেকে দলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামীর নাম নিয়ে এখন বেশি চর্চা চলছে। এনিয়ে শহরের চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা তুঙ্গে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, আলিপুরদুয়ার জেলার মধ্যে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা আসনটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এই আসন একটি সময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে বামেদের সঙ্গে জোট করে কংগ্রেসও এই আসনে ক্ষমতায় আসে। গত বিধানসভা নির্বাচনে অবশ্য তৃণমূল এই আসনে জয়ী হয়। তৃণমূলের উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা সৌরভ চক্রবর্তী বিধায়ক হন। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে তৃণমূল জয়ী হলেও ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে তারা খারাপ ফল করে। এখানে বিজেপি তৃণমূলকে অনেকটাই বিপাকে ফেলে। এর মধ্যেই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কড়া নাড়ছে। তাই এই নির্বাচনে কে তৃণমূলের টিকিট পাবেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

- Advertisement -

তৃণমূলের একটি অংশের দাবি, বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী আলিপুরদুয়ারের উন্নয়নে একাধিক কাজ করেছেন। তিনি আবার দলের রাজ্য কমিটির সম্পাদক ও জেলার মুখপাত্র। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি পদও দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছেন। সবদিক থেকে তিনিই ফের আলিপুরদুয়ার বিধানসভা আসনের তৃণমূলের টিকিট পাচ্ছেন। এ বিষয়ে সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, দলনেত্রীর নির্দেশে এখন আমি বিধানসভার ২৭৪টি বুথেই ভোটারদের সঙ্গে বৈঠক করছি। রোজ চারটি বুথে যাচ্ছি। এলাকার সমস্যা সহ ব্যক্তিগত সমস্যার বিষয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। এছাড়াও রাজ্য যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও পিকের নির্দেশেও কাজ করছি। তবে বিধানসভার টিকিট কে পাবেন তা দলনেত্রীই ঠিক করবেন। যিনিই টিকিট পান আমি দলের কাজ করব। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তথা তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দের নামও বর্তমানে চর্চায়। মনোরঞ্জনকে টিকিট দেওয়ার দাবিতে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট হচ্ছে। তৃণমূলের একটি অংশ জানিয়েছে, মনোরঞ্জনবাবু আলিপুরদুয়ার বিধানসভার তৃণমূলের ভোট ম্যানেজার। মূলত তাঁর জন্যই গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ১১টি অঞ্চলেই ভালো ফল করে। এছাড়াও তিনি আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক সভাপতি থাকায় এখানে এখনও দলের কোনও গোষ্ঠীকোন্দল নেই। একক নেতৃত্বেই তিনি সব ভোটেই তৃণমূলকে জয়ী করেছেন। এছাড়াও গোটা বিধানসভা এলাকাই তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। এসব কারণে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা আসনে তাঁকেও প্রার্থী করার দাবি উঠেছে। মনোরঞ্জনবাবু সেভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আমি দলের অনুগত সৈনিক। দল যখন যে দায়িত্ব দিচ্ছে তা পালন করছি। আগামী দিনেও দল যে দায়িত্ব দেবে সে দায়িত্বই পালন করব। সৌরভ, মনোরঞ্জন বাদেও তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামীকেও প্রার্থী করার দাবিতে আলোচনা চলছে। দলের একটি অংশ জানিয়েছে, মৃদুলবাবু প্রার্থী হলে কারও মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব থাকবে না। এছাড়া তাঁর বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়ানোর পূর্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে। গোটা বিধানসভা এলাকা তো বটেই, জেলাজুড়েই তাঁর পরিচিতি। একজন আদি তৃণমূল নেতা হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা অন্য নেতাদের তুলনায় ভালো। আসন্ন নির্বাচনের জন্য দলনেত্রী তাঁকেই বেছে নিতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন। মৃদুলবাবু বলেন, আমি দলের জেলার দায়িত্ব সামলাচ্ছি। আগামী বিধানসভা ভোটে প্রার্থী কে হবেন সে বিষয়ে এখনও কোনও আলোচনা হয়নি।

আলিপুরদুয়ার বিধানসভায় এই তিন নেতৃত্বকে আগামী বিধানসভায় টিকিট দেওয়ার দাবি একাধিক মাধ্যমে উঠলেও পিকের টিমই শেষ কথা বলবে বলে তৃণমূলেরই একাংশ মনে করছে। সূত্রের খবর, একাধিক নাম সামনে আসলেও পিকের টিম আলিপুরদুয়ার বিধানসভায় নতুন মুখ আনতে চাইছে। বিধানসভার বিশিষ্ট সমাজকর্মী, চিকিত্সক, আইনজীবী কিংবা সাধারণ ভোটার যাঁর দলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে এমন কাউকে পিকে আলিপুরদুয়ারের জন্য প্রার্থী করতে চায়। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি।