পিকের চালেই বাজিমাত তৃণমূলের

112

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সমস্ত হিসেব নিকেশ উলটে দিয়ে বাংলায় তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার রাজ্যে এসে জনসভা করলেও বাংলার মসনদ দখলে ব্যর্থ বিজেপি। বিজেপির আসন বাড়লেও এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড তাতে ২০০-রও বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যা গরিষ্ঠ দল হিসেবে ক্ষমতায় আসতে চলেছে তৃণমূল। বুথ ফেরত সমীক্ষায় এটা স্পষ্ট বোঝা গিয়েছিল যে, তৃণমূল ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে। তবে ফল এতটা ভালো হবে তা হয়তো খোদ তৃণমূল সুপ্রিমোও আশা করেননি।

তবে এই সাফল্যের পেছনে যাঁর অনেকটাই ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল তিনি হলেন তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর বা পিকে। মূলত তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত ‘দিদিকে বলো’, ‘বাংলার গর্ব মমতা’, ‘দুয়ারে সরকার’, ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’-এর মতো প্রকল্প ও প্রচার কর্মসূচি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে তা ছাপ ফেলেছে। যার প্রভাব পড়েছে ভোট বাক্সে। পিকে নিজেও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বিজেপির আসন তিন সংখ্যা পেরোবে না। সেটা মিলে গিয়েছে। এদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিভিন্ন জনসভায় দাবি করেছিলেন, বিজেপি এবার ২০০-র বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসবে। সেটা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।

- Advertisement -

গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শার জনসভায় তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দান করেন। তার পরপরই একে একে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান একঝাঁক তৃণমূল নেতা। এতে ব্যাকফুটে চলে যায় ঘাসফুল শিবির। কিন্তু সেই ধাক্কা তৃণমূল যে যথেষ্ট ভালোভাবেই সামলেছে, তা ভোটের ফলেই স্পষ্ট। ভোটের আগে ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগান তুলে প্রচার শুরু করেছিল তৃণমূল, যা পিকের মাস্টারস্ট্রোক। এটা যে রাজ্যের মানুষ সাদরে গ্রহণ করেছিলেন, তার প্রমাণ মিলেছে ভোট বাক্সে। একের পর এক তৃণমূল নেতা-মন্ত্রী দলত্যাগ করায় অনেকেই ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। যদিও নিজের কর্তব্যে অবিচল ছিলেন পিকে। আজ তৃণমূলের অভাবনীয় ফলের পেছনে তাঁর ক্ষুরধার মস্তিষ্কের অবদান যে অনেকটাই, তা একবাক্যে মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।