পুজোয় পিকের নজরে তৃণমূল নেতারা

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : অন্যান্য বছর পুজোর দিনগুলি হালকা মেজাজেই কাটান নেতারা। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। একে তো কোভিড পরিস্থিতি, তার উপর বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। এই অবস্থায় পুজোর কদিন তৃণমূলের নেতারা কে কী করছেন, তার খুঁটিনাটি বিষয়ে খোঁজ রাখবে পিকের টিম।

পুজোর কদিন অঞ্চল সভাপতি থেকে জেলা সভাপতি, বিধায়করা কী করছেন তার রিপোর্ট তৈরি হবে। সেই রিপোর্ট খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে কাছে জমা দেবেন পিকে। জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, এই রিপোর্টের কথা শুনেই আলিপুরদুয়ারের দলীয় নেতারা এখন থেকেই পুজোর কদিনের রুটিন তৈরি করে ফেলেছেন। এ বিষয়ে দলের আলিপুরদুয়ার টাউন ব্লক সভাপতি দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, এবার পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। পুজোর কদিন মানুষ পাড়াতেই থাকবেন। তাই আমরা পুজোর দিনগুলিতে প্রতিটি পাড়ায় জনসংযোগের কর্মসূচি নিয়েছি। কোন দিন কোন এলাকায় কী কর্মসূচি থাকবে তার রুটিনও তৈরি করা হয়েছে।

- Advertisement -

সম্প্রতি তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরই একের পর এক বিদ্রোহ শুরু হয়। অনেক নেতা দলীয় পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল যুবর রাজ্য সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর আলিপুরদুয়ারের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সবাইকে দ্বন্দ্ব ভুলে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয়। তবু এখনও শাসকদলের অনেক নেতা গোঁসা করে বসে আছেন। দলের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন। তাই পুজোর মরশুমে তাঁদের কোথাও দেখা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় পুজোর সময় নেতাদের আরও বেশি করে জনসংযোগ করার কথা বলা হয়েছে।

রাজ্য নেতৃত্বের ওই নির্দেশ পেয়ে জেলার প্রথমসারির নেতারা কাজে নেমে পড়েছেন। পাশাপাশি অঞ্চল সভাপতিরা পুজোর দিনগুলোতে নিজেদের এলাকায় জনসংযোগ কীভাবে করা যায়, তার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, জেলার নেতারা বেশিরভাগ আলিপুরদুয়ার শহরেই সময় কাটাবেন। যেহেতু এবার পুজোর উদ্বোধনের কোনও কর্মসূচি নেই, তাই শহরের নেতারা পার্টি অফিস এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরবেন। তৃণমূলের জেলার মুখপাত্র তথা বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, এবার পুজোতে আমরা কোথাও ভিড় করব না। কিন্তু আগামী বিধানসভার আগে এবার পুজো গুরুত্বপূর্ণ। তাই গত বছরগুলির তুলনায় এবার বিধানসভার সব পুজো প্যান্ডেলেই পৌঁছানোর রুটিন তৈরি করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, বেশি করে জনসংযোগ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ। পুজোর সময় তাঁরা কী করছেন, সেই বিষয়টি সৌরভরা রাজ্য কমিটির কাছেও জানাবেন। ইতিমধ্যেই পিকের টিমের লোকজন আলিপুরদুয়ারে ঘাঁটি গেড়েছেন। দলের নেতারা কী কী কর্মসূচি নিচ্ছেন তার খোঁজ নিয়ে ছবি ও তথ্য রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এ সম্পর্কে রিপোর্ট পিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে হাতে তুলে দেবেন। আগামী বিধানসভায় টিকিট পেতে এ কদিনের জনসংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।