তৃণমূলের কোন্দল সম্পর্কে রিপোর্ট নিচ্ছে পিকে’র টিম

369

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ফালাকাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের কোন্দল সম্পর্কে দলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের প্রতিনিধিরা খোঁজ নেওয়া শুরু করলেন। সূত্রের খবর, বিক্ষুব্ধ নেতাদের ফোন করার পাশাপাশি দফায় দফায় বৈঠক করে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করছেন পিকে’র টিমের প্রতিনিধিরা। দলের নেতাদের একাংশও পিকে’র টিমের কাছে নিজেদের মান, অভিমান ও ক্ষোভের কথা জানাচ্ছেন। এদিকে দলের এই কোন্দলের আবহেই বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে যুব তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ ব্লক ও অঞ্চল কমিটি ঘোষণা করা হয়। যুব সংগঠনেও ব্যাপক রদবদল হয়েছে। সাংগঠনিকভাবে ১৫টির মধ্যে ১০টি অঞ্চল কমিটিতে নতুন মুখকে সভাপতি করা হয়েছে। তবে এই কমিটি নিয়েও কোন্দলের আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এরকম আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন যুব তৃণমূলের নেতারা।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় কোন্দল নিয়ে ফালাকাটায় অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মূলত কমিটি গঠন নিয়ে একের পর এক দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে। বিক্ষুব্ধ যুব নেতা সঞ্জয় দাসের পর মূল সংগঠনের ফালাকাটা-২’র পূর্বাংশ অঞ্চল কমিটি নিয়ে কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। এই বিক্ষুব্ধ নেতারা পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি দলের কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন না। শীর্ষ নেতারা অবশ্য দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য সবরকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দলের এই ডামাডোল অবস্থার প্রভাব আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য এবার মাঠে নেমেছে পিকে’র টিম।

- Advertisement -

দলীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি পিকে’র টিম ফালাকাটায় দলের নেতাদের একাংশের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য পিকে’র প্রতিনিধিরা ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকজন নেতাকে ফোন করেন। এক্ষেত্রে বিক্ষুব্ধ নেতারা বৈঠকে যেতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। তারপরই অঞ্চল কমিটি নিয়ে কী কারণে ক্ষোভের সঞ্চার হল তা ওইসব নেতাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নিয়েছেন পিকে’র প্রতিনিধিরা। আবার বৈঠকের মধ্যেও উপস্থিত নেতারা দলের কিছু সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন। এদিনও পিকে’র টিম ব্লক নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। ১২ জন অঞ্চল সভাপতির সঙ্গেও দলের ব্লক কমিটির আলাদা বৈঠক হয়। রাইচেঙ্গার সুভাষ অধিকারী বলেন, পিকে’র টিম ফোন করে ওই বৈঠকে যেতে বলেছিল। কিন্তু আমি যেতে পারব না বলে জানিয়ে দিয়েছি। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আরেক বিক্ষুব্ধ নেতা বলেন, আমিও বৈঠকে যাইনি। তবে ফোনে সব কিছুই পিকে’র টিমকে জানিয়েছি।

এদিকে বুধবার ফালাকাটায় যুব তৃণমূলের জেলা স্তরের বৈঠকের পর সংগঠনের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ কর ও ব্লক সভাপতি শুভব্রত দে পূর্ণাঙ্গ ব্লক ও অঞ্চল কমিটি ঘোষণা করেন। ফালাকাটা-১’এ রাহুল গুহ নিয়োগী, ফালাকাটা-২’র পূর্বাংশে অলোক বর্মন, ফালাকাটা-২’র পশ্চিমাংশে অর্ঘ্য কুন্ডু, গুয়াবরনগর (দক্ষিণ) পলাশ সরকার, দেওগাঁও(উত্তর) এনামূল হক, ধনীরামপুর-১’এ পরিতোষ বর্মন, ধনীরামপুর-২’এ পবিত্র রায়, দলগাঁও এ চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, শালকুমারে সুজন ঘোষ ও ময়রাডাঙ্গায় মানিক রায়ডাকুয়াকে নতুন মুখ হিসেবে যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি করা হয়েছে। জটেশ্বর এলাকার পাঁচটি অঞ্চল দেখার জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয় যুব নেতা দেবজিৎ পালকে। ব্লক কমিটিতেও বেশ কয়েকজন নতুন মুখ দায়িত্ব পেয়েছেন। সূত্রের খবর, এই রদবদল নিয়েও কোন্দলের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সংগঠনের ব্লক সভাপতি শুভব্রত দে বলেন, এই কমিটি গঠন নিয়ে কোথাও কোন্দল নেই। যুব নেতাদের পদোন্নতি হওয়ায় অঞ্চল সভাপতি বদল করা হয়েছে। জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ কর বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে গোটা ফালাকাটায় যুব নেতারা ঝাঁপিয়ে পড়বেন।