প্রকাশ মিশ্র, মানিকচক : চার-চারবার মন্দিরের গিয়েছে গঙ্গাগর্ভে। বারেবারে তাই বদলে গিয়েছে মায়ের পুজোর স্থান। শেষ পর্যন্ত তাঁর জায়গা হয়েছে জোতপাট্টা গ্রামে। তাই মালদার মানিকচকের এই পুজো ভ্রাম্যমাণ দুর্গাপুজো নামেই পরিচিত। মানিকচক দিয়ারা সর্বজনীন দুর্গাপুজো এবার ভাঙনের কবলে না পড়লেও বন্যায় ভাসছে গোটা এলাকা। মন্দিরের চারিদিকে জল আর তাই এবারও পুজো নিয়ে কার্যত সংশয়ে রয়েছে জোতপাট্টা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। একদিকে খারাপ আবহাওয়া এবং অন্যদিকে বন্যা, দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে এবার পুজো নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন খোদ মা দশভুজাও।

১৫০ বছরের প্রাচীন এই পুজো শুরু হয়েছিল ডাল্লুটোলা গ্রামে। পুজো কমিটির উদ্যোক্তা উজ্জ্বল কর্মকার বলেন, কয়েকবছর পুজো হওয়ার পর সেখানে ভাঙন শুরু হয়। তলিয়ে যায় মন্দিরটি। এরপর মন্দির তৈরি করা হয় বেচুটোলা গ্রামে। বর্ষা আসতেই ফের গঙ্গা গর্ভে চলে যায ওই দুর্গা মন্দির। আবার নতুন উদ্যমে মন্দির তৈরি করা হয় হাড্ডাটোলায়। বেশ কয়েক বছর পুজো হওয়ার পরে ভাঙনে তলিয়ে যায় সেই মন্দিরটিও। তারপরে আবার মন্দির তৈরি করা হয় জোতপাট্টায়। কিন্তু সেখানে জমি না পাওয়ায় বেশ কয়েক বছর ঘুরে ঘুরে এর-ওর বাগানে বা জমিতে অস্থায়ীভাবে পুজো হতে থাকে।

- Advertisement -

তবে কয়েকবছর পরে একজন নাগরিক মন্দিরের জন্য জমি দান করেন। বর্তমানে সেখানেই স্থায়ী মন্দির গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে এখনও মন্দিরের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এবারে ভাঙন না হলেও চারিদিকে বন্যা। এত জলের মধ্যে কী করে পুজো হবে সেই নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন পুজো কমিটির কর্মকর্তারা। প্রতিমা তৈরির কাজও চলছে ধীর গতিতে। খারাপ আবহাওয়ার জন্য রঙের কাজ শুরু করা যায়নি। মন্দিরের সামনে গর্ত ছিল। জলের ফলে নতুন করে ভরাট করা মাটিও ধুয়ে মুছে চলে গিয়েছে।

পুজো কমিটির সম্পাদক নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ মণ্ডল এবং সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, এবারে যা পরিস্থিতি জল বাড়তে থাকলে পুজো করাটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। বন্যার জন্য অনিশ্চয়তা থাকলেও পুজো হবে ধরে নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। আমাদের এবারের বাজেট প্রায় এক লক্ষ টাকা। গ্রাম থেকে চাঁদা তুলেই মূলত পুজো করা হয়ে থাকে। সেই কাজও এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পী নিখিল মালাকার। পুজো উপলক্ষ্যে প্রতিবারই এখানে মেলা বসে। কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি নেই। চারিদিকে শুধু থইথই করছে জল।