কাঁটাতারবন্দি গ্রামের বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে এপারে আনার পরিকল্পনা

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ : নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া লাগানোয় বেশ কিছু ভারতীয় গ্রাম বেড়ার বাইরে চলে গিয়েছে। ফলে কাঁটাতারের বেড়াবন্দি হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার মানুষ। প্রতিনিয়তই তাঁদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত রক্ষীবাহিনী সহ প্রশাসনিক মহলে তাঁদের অভিযোগ পৌঁছেছে। বেড়ার বাইরে ভারতীয় কোনও বসতি এলাকা না থাকলে সীমান্তে নিরাপত্তার কাজেও সুবিধা হতে পারে। তাই বেড়ার বাইরে থাকা ওই এলাকার মানুষদের বেড়ার এপারে ফিরিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছে প্রশাসন।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সম্ভব হলে ওই এলাকার মানুষ বেড়ার ভিতরে এসে বসবাস শুরু করুক এমনটা বিএসএফ কর্তৃপক্ষও চাইছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন তাঁরা। বেড়ার বাইরে থাকায় তাঁদের আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিয়মকানুন মেনে চলতে হচ্ছে। অনেক সময় তা স্বাভাবিক চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করছে বলে এলাকার মানুষ মনে করছেন। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছেও বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। সমস্যা সমাধানে স্থানীয় এবং বিএসএফের উচ্চকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সম্মতি জানার জন্য বেড়ার বাইরে থাকা মানুষের সঙ্গে কথাও বলা হচ্ছে। বিএসএফের তরফে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে। মেখলিগঞ্জ ব্লকের কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কলসিগ্রাম, চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের হাঁড়িকামাতের মতো বেশ কয়েকটি এলাকা কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে পড়ে গিয়েছে। সীমান্তের নির্দিষ্ট গেট দিয়ে তাঁদেরকে গ্রামে প্রবেশ করতে হয় এবং গ্রাম থেকে বের হতে হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট পরিচয়পত্রও দেখাতে হয়। এনিয়ে মাঝেমধ্যে ভুল বোঝাবুঝিও তৈরি হয়। এই অবস্থায় বেড়ার বাইরে থেকে বেড়ার ভিতরে ফিরে বসবাস করলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বেড়ার বাইরে থাকা সকলের আর্থিক সমস্যা সহ নানা কারণে এপারে ফিরে আসা সম্ভব কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

- Advertisement -

এব্যাপারে চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সবিতা বিশ্বাস জানান, ওই গ্রামের মানুষ স্থায়ীভাবে এপারে ফিরে আসতে চান কি না তা নিয়ে বিএসএফের তরফেও জানতে চাওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি বিএসএফের কর্তারা খোঁজখবর নিয়েছেন। ওই এলাকার মানুষ মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বিএসএফের জলপাইগুড়ি সেক্টরের ডিআইজি সঞ্জয় পন্থ বলেন, কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে কিছু বসতি এলাকা রয়েছে। সেখানে সীমান্তের বিভিন্ন নিয়মকানুন রয়েছে। ওই এলাকার মানুষ যদি এপারে পাকাপাকিভাবে চলে আসতে পারেন তবে অনেক বেশি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন তাঁরা। বেড়ার বাইরে থেকে এপারে ফিরে আসতে চাইলে কোনও কিছু সহযোগিতা করার থাকলে তা বিএসএফের তরফে অবশ্যই করা হবে।