বায়োমেডিকেল বর্জ্য নষ্টে প্ল্যান্ট জলপাইগুড়িতে

55

জলপাইগুড়ি : উত্তরবঙ্গের চার জেলার বায়োমেডিকেল আবর্জনা নষ্ট করা হবে জলপাইগুড়িতে। সেজন্য জলপাইগুড়িতে স্থাযী কমন বায়োমেডিকেল ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড ডিসপোজাল ফেসিলিটি (সিবিডব্লিউটিএফ) প্ল্যান্টের অনুমোদন দিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। করোনার বিধি মেনেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট করাতে হবে। তারপরেই আবার হবে পুরভোটও। সেইসঙ্গে আবার চোখ রাঙাচ্ছে করোনাও। সেসব কথা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে স্বাস্থ্য দপ্তর কলকাতার এক বেসরকারি সংস্থাকে এই প্ল্যান্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। আপাতত জলপাইগুড়ি জেলায় এই স্থায়ী প্ল্যান্ট তৈরির জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে বলে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ রমেন্দ্রনাথ প্রামাণিক জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার বায়োমেডিকেল আবর্জনা এই প্ল্যান্টে নিয়ে এসে নষ্ট করা হবে।

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে বুথে বুথে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে, একহাতে গ্লাভস পরে ভোট দিতে হবে। সেইসঙ্গে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের সমস্ত বায়োমেডিকেল আবর্জনা নির্দিষ্ট হলুদ রংয়ের ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। কেবল জলপাইগুড়ি জেলারই মোট ২ হাজার ৫৬২টি বুথ মিলিয়ে টন কে টন বায়োমেডিকেল আবর্জনা জমা হবে। বরাত পাওয়া নির্দিষ্ট এজেন্সি সেই আবর্জনা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাবে। জেলার বুথগুলি থেকে ওই আবর্জনা সাফাইয়ের জন্য ১৬০টি গাড়ি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

- Advertisement -

মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের দপ্তরে জেলা কোভিড প্রোটোকল ম্যানেজমেন্ট আধিকারিক সুচেতনা দাসের চেম্বারে এ বিষয়ে বৈঠক হয়। জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ব্লক অফিসের জয়েন্ট বিডিও এবং ব্লকস্তরের কোভিড প্রোটোকল অফিসাররা সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বিশেষ অ্যাপ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। সেই অ্যাপে প্রত্যেক বুথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে সংযুক্ত করা হয়েছে। বুথ থেকে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে বায়োমেডিকেল আবর্জনা জমা হচ্ছে কি না, তা দেখভালের দায়িত্বে নির্দিষ্ট কর্মী নিযুক্ত করা হয়েছে। বুথ থেকে ঢাকা গাড়িতে কোন পথে কোন হাসপাতালে আবর্জনা নিয়ে যাওয়া হবে, তা অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে। গাড়িতে কীভাবে আবর্জনা পৌঁছানো হল, সেই ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করলে কমিশন তা দেখতে পাবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে সেই আবর্জনা বরাত পাওয়া সংস্থা নিজেদের ডিসপোজাল কেন্দ্রে নিয়ে যাবে। এমনটাই জানিয়েছেন সুচেতনা দাস।

সূত্রের খবর, প্রথমে ঠিক করা হয়েছিল যে শিলিগুড়িতেই সিবিএমডব্লিউটিএফর স্থায়ী প্ল্যান্ট বানানো হবে। কিন্তু সেই প্ল্যান্ট জলপাইগুড়িতে নিয়ে আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী চার মাসের মধ্যে বরাত পাওয়া সংস্থাকে এই প্ল্যান্ট তৈরির কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এই কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে গেলে আগে পরিকাঠামো বাড়াতে হবে জেলা প্রশাসনকে। বায়োমেডিকেল আবর্জনা নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে সরকারি ব্লক হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা খুবই কম। ফলে এক-একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রচুর আবর্জনা জমবে। সেই আবর্জনা নিয়ে যেতে গাড়িগুলির উপর চাপ বাড়বে।