উত্তরবঙ্গে প্লাজমা থেরাপি চালুর প্রক্রিয়া শুরু 

429

শিলিগুড়ি: অবশেষে সরকারিভাবে প্লাজমা থেরাপির প্রক্রিয়া শুরু হল উত্তরবঙ্গে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ভবন থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে বার্তা পাঠানো হয়েছে। প্রোটোকল মেনে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে এ ব্যাপারে আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই মতো প্রক্রিয়াও শুরু করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বুধবার লিখিতভাবে প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করার জন্য স্বাস্থ্য ভবন, রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলের ডিরেক্টর এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চে (আইসিএমআর) আবেদন করা হবে।

করোনা সংক্রামিত হওয়ার পরে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি সেই ব্যক্তিকে আগামীতে পুনরায় ওই রোগে সংক্রামিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। সেই ব্যক্তির শরীর থেকে রক্ত নিয়ে সেই রক্ত থেকে প্লাজমা পৃথক করে নতুন করে সংক্রামিত ব্যক্তির শরীরে, বিশেষ করে খুবই সংকটজনক অবস্থায় থাকা রোগীদের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এর নামই প্লাজমা থেরাপি। কলকাতায় ইতিমধ্যেই সরকারিস্তরে প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসা শুরু হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও গত একমাস ধরে এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসার অনুমোদন চেয়ে জুন মাসে আবেদন করেছিল। তারা অনুমোদন পাচ্ছে, এমনটাও জানানো হয়েছিল। এমনকি দিনক্ষণও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে ব্লাড ব্যাংক কর্তপক্ষের দাবি। সেই মতো ওই ব্লাড ব্যাংক থেকে প্লাজমাদাতার খোঁজ করা হয়। ব্লাড ব্যাংক থেকে ডাক পেয়ে এককথায় রাজি হয়ে গিয়েছিলেন সদ্য করোনা জয় করে ফিরে আসা শহরের বিশিষ্ট দন্তচিকিৎসক অনির্বাণ রায়। তিনি রাজ্যের কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের শিলিগুড়ির কর্মকর্তাও। অনির্বাণবাবুর শরীর থেকে রক্ত নিয়ে সেখান থেকে প্লাজমা পৃথক করে সেই প্লাজমা দেওয়ার জন্য রোগীও চিহ্নিত করা হয়। গত ১৪ জুলাই বিকেলে ওই চিকিৎসক রক্ত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাংকে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু ওই ব্লাড ব্যাংক অনুমোদন না পাওয়ায় এই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। করোনা সংক্রামিত যে রোগীকে প্লাজমা দেওয়ার কথা ছিল সেই রোগীও পরদিনই মারা গিয়েছেন।

- Advertisement -

কলকাতায় চালু হলেও কেন উত্তরবঙ্গে প্লাজমা থেরাপি চালু করা হচ্ছে না সেই প্রশ্ন বারবার উঠছে। এই ইশ্যুতে স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। কেন না চিকিৎসক মহলের অনেকেই বলছেন, ‘শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে প্রতিদিন যেভাবে করোনা সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে একমাত্র প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগেই কিছু রোগীকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব। তাই সরকারিভাবেও প্লাজমা থেরাপি চালু করার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকের পক্ষ থেকে দ্রুত প্লাজমা থেরাপির অনুমোদন দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়া চালু করার জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্লাজমাফেরাসিস নামে একটা মেশিনের প্রয়োজন হবে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ সূত্রে খবর, সোমবার স্বাস্থ্য ভবন থেকে কলেজ অধ্যক্ষকে এই পরিষেবা চালু করার জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। প্রোটোকল মেনেই এই আবেদন করার পরেই ছাড়পত্র দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো অর্থাৎ প্লাজমাফেরাসিস মেশিন এখানে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংক অধিকর্তা ডাঃ মৃদুময় দাস বলেন, ‘প্লাজমা থেরাপি চালু করার ব্যাপারে সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে লিখিতভাবে কলেজ অধ্যক্ষের মাধ্যমে আবেদন করছি। তারপরেই ছাড়পত্র দেওয়ার কাজ শুরু হবে। আশা করছি শীঘ্রই এ ব্যাপারে ছাড়পত্র পাওয়া যাবে।’

তথ্য-রণজিৎ ঘোষ