সীমান্তে হিট বাংলাদেশের প্লাস্টিকের ফ্যান

347

দীপেন রায়, মেখলিগঞ্জ : দামে কম মানে ভালো…। বাংলাদেশের একটি আসবাব বিক্রেতা সংস্থার বিজ্ঞাপন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল না হলেও দামে কম মানে ভালো হওয়ায় মেখলিগঞ্জের বাজারগুলিতে দেদার বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশের প্লাস্টিকের ছোট ফ্যান। মেখলিগঞ্জ সীমান্তের ধাপড়াহাট থেকে শুরু করে ডাঙ্গারহাট, মেখলিগঞ্জ শহর, চ্যাংরাবান্ধা, চৌরঙ্গি বাজার, রানিরহাট ও জামালদহের বিভিন্ন ইলেকট্রিক সামগ্রীর দোকানে বাংলাদেশের এই ফ্যান দেদার বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকলেও এই ফ্যানের জোগান দিচ্ছে চিন। প্লাস্টিকের এই ফ্যান ভারতের বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। বাংলাদেশে এই ফ্যানের দাম ভারতীয মুদ্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। চিন থেকে চোরাবাজারে বাংলাদেশ ঘুরে ভারতের মেখলিগঞ্জের খোলা সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে আসছে এই ফ্যান। চোরাপথে ভারতে আসায় এই ফ্যানের জন্য সরকারকে কর দিতে হয় না বলে দাম অনেকটাই কম পড়ে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

- Advertisement -

মেখলিগঞ্জের এক ব্যবসায়ী জানান, কিছু যুবক দোকানে দোকানে দিয়ে যায় এই ফ্যান। ফ্যান প্রতি ১০০ টাকার মতো লাভ হয়। দাম কম হওয়ায় এই ফ্যানের চাহিদা তুঙ্গে। তবে কীভাবে বাংলাদেশ থেকে ফ্যান আসছে তা তাঁরা জানেন না বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। ছোট ফ্যান হলেও হাওয়া ভালো হওয়ায় তা বৈধ বা অবৈধ পথে আসছে, তা নিয়ে ভাবছেন না চঞ্চল রায় পাটোয়ারি, পূর্ণধর রায়, তাপস রায়, রণদীপ রায়ের মতো ক্রেতারা। পূর্ণধর রায় বলেন, ভারতের ২,০০০ টাকা মানের ফ্যানের মতো বাংলাদেশের প্লাস্টিকের ফ্যান মাত্র ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের প্লাস্টিকের ফ্যানই কিনছি আমরা। শুধু দাম কম নয়, ছোট হওয়ায় বিদ্যুতের বিলও কম ওঠে বলে জানান সুবল রায়ের মতো ব্যবহারকারীরা। সুবল রায় বলেন, ফ্যানটি খুবই ছোট একটি মোটর দিয়ে চলে। ফলে বিদ্যুতের বিলও অনেক কম আসে। আমাদের মতো সাধারণ ঘরের মানুষ দাম ও বিল কম হওয়ায় উপকৃত হচ্ছে।

কম দাম হওয়ায় শোয়ার ঘর ছাড়াও বাংলাদেশের প্লাস্টিকের ফ্যান গাড়ি থেকে শুরু করে বারান্দা ও রান্নাঘরেও দেখা যাচ্ছে মেখলিগঞ্জে। তবে যেভাবে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে আসা ফ্যান প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে তাতে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের নজরদারির। মেখলিগঞ্জের এক পুলিশ আধিকারিক অবশ্য বলেন, বিষয়টি নজরে আসেনি। খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি অবৈধভাবে কোনও ফ্যান বিক্রি হয় তবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।