দখল হয়ে যাচ্ছে লাটাগুড়ির খেলার মাঠ, ক্ষোভ ক্রীড়ামহলে

360

শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি : দখল হয়ে যাচ্ছে লাটাগুড়ির একমাত্র খেলার মাঠ। লাটাগুড়ির নতুনপাড়ায় লাটাগুড়ি হাইস্কুলের এই মাঠ দখল হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়। এর পাশাপাশি মাঠের বেহাল দশায় হতাশ লাটাগুড়ির ক্রীড়াজগত্। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে মাঠের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়ে কোনো কাজ হয়নি। মালের বিধায়ক বুলু চিকবড়াইক এব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

লাটাগুড়ি বড়ো মাঠ বলে পরিচিত লাটাগুড়ি হাইস্কুলের এই মাঠে এক সময় উত্তরবঙ্গের সাড়া জাগানো কিছু ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হত। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও সীমানাপ্রাচীরের অভাবে ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে এই ময়দান। লাটাগুড়ির এক সময়ে নামকরা ফুটবলার বাপ্পা পালচৌধুরি বলেন, বিরাট এই মাঠ ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে। মাঠ দিয়ে গাড়ি ঢুকছে। বর্তমানে মাঠটি পার্কিংয়ে জায়গায় পরিণত হয়েছে। লাটাগুড়ি সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের সম্পাদক বিপ্লব সরকার বলেন, মাঠের তিন পাশেই বাড়ি রয়েছে। মাঠের মধ্যে বেশ কিছু জায়গা ধীরে ধীরে তাঁরাই দখল করে নিচ্ছে। এছাড়া মাঠে অনুষ্ঠিত মেলার পর আবর্জনায় ভরে থাকে। মাঠে গোরুও চড়ে বেড়ায়। অথচ মাঠ সংস্কারের প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। লাটাগুড়ি ফ্রেন্ডস ক্লাবের সম্পাদক বাবাই দে বলেন, মাঠের মধ্যে ট্রাকও ঢুকে পড়ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাঠের কয়েক পাশে তারের ফেন্সিং দিয়েছিল, তাও ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে মাঠটিতে খেলার পরিবেশই নেই। কিছু স্বার্থানেষী মানুষের জন্যই মাঠটির এই অবস্থা। লাটাগুড়ি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক গোপাল দাস বলেন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের মতো টাকা স্কুলের নেই। প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে মাঠটির সংস্কার ও সীমানাপ্রাচীরের দাবি জানিয়ে লাভ হয়নি।

- Advertisement -

লাটাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েছের প্রধান জগবন্ধু সেন বলেন, মাঠের সংস্কার ও দখলদারি ঠেকাতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো সাহায্য চাইলে পঞ্চায়েতের তরফে সাহায্য করা হবে। লাটাগুড়ি হাইস্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি রতন অধিকারী বলেন, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। যাঁরা মাঠে গাড়ি রাখেন বা বিদ্যালয়ে মাঠ দখল করে রেখেছেন তাঁদের বহুবার সতর্কও করা হয়েছে। মালের বিডিও বিমানচন্দ্র দাস বলেন, বিদ্যালয় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য আপাতত ব্লক প্রশাসনের কোনো টাকা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। মালের বিধায়ক বুলু চিকবড়াইক বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।