সূর্য ডুবলেই ভিনদেশের বাসিন্দা হয়ে যান মঞ্জুর-নুমান-নুরুলরা

324

তপনকুমার বিশ্বাস, ফুলবাড়ি : সূর্য ডুবলেই যেন ভিনদেশের বাসিন্দা হয়ে যান সকলে। কারণ, সন্ধ্যা নামতেই বন্ধ হয়ে যায় কাঁটাতারের বেড়ার ফটক। আর তাতেই দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার ফুলবাড়ি গ্রাম। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ওই গ্রামটি। ফলে প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে সীমান্তের বেড়ার গেট বন্ধ হলেই নিজভূমে পরবাসী হয়ে যান ফুলবাড়ির মঞ্জুর, নুমান, নুরুল, ইরশাদরা। রাত বাড়তেই আতঙ্ক গ্রাস করে বেড়ার ওপারের বাসিন্দাদের। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হুদা বলেন, স্বাধীন ভারতে থেকেও প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে আমরা আজও পরাধীন। যেন ঘড়ির কাঁটায় বাধা আমাদের স্বাধীনতা। পানীয় জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সবকিছুরই অভাব রয়েছে এখানে।

সবুজে ঘেরা কাঁটাতারের ওপারে ফুলবাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দারা গ্রামটিকে ছোট ফুলবাড়ি বলে থাকেন। বসতির মধ্যেই উঁচু ফ্লাডলাইট। গ্রাম পেরিয়ে গেলেই দেখা যায় দুই বাংলার সীমান্ত ছুঁয়ে নদী এবং বাংলাদেশ সীমান্তে ওই নদীর চর। বিএসএফ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, উত্তর দিনাজপুর জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ২২৭ কিলোমিটার। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সময় ওপারে থেকে যায় ভারতের বেশ কিছু গ্রাম, কৃষিজমি, চা বাগান। সেই সময় কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের এপারে নিয়ে আসা হলেও, গোয়ালপোখরের ওই গ্রামটি বেড়ার ওপারেই থেকে গিয়েছে। গ্রামের এক বাসিন্দা মহম্মদ ইরশাদ আলি বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি ও চাষের জমি যেটুকু রয়েছে, তা কাঁটাতারের বেড়ার ভিতরে। কাঁটাতারের বেড়া পড়ার আগে এপারে আরও অনেকে বাস করতেন। যাঁদের জমি ওপারে ছিল, তাঁরা চলে গিয়েছেন। আমার মতো অসহায় কয়েকজন থেকে গিয়েছি। রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

- Advertisement -

গ্রামবাসীরা জানান, ১২ মাস ভোটার কার্ড বুকে আগলে রেখে ঘুরতে হয়। তবেই কাঁটাতারের ৪২ নম্বর গেট দিয়ে মূল ভূখণ্ডে যাতায়াত করা যায়। বিএসএফের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু কড়াকড়ি থাকলেও গ্রামবাসীদের হয়রানি করা হয় না। বিপদে বিএসএফ ওই গ্রামের পাশে থাকে। ইসলামপুরের ভারপ্রাপ্ত মহকুমা শাসক খুরশিদ আলম বলেন, ওই গ্রামের বাসিন্দাদের সমস্যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়ালপোখরের বিধায়ক তথা রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী গোলাম রব্বানি বলেন, ওই গ্রামের সমস্যার কথা জানি। ওই গ্রামের বাসিন্দারা কাঁটাতারের বেড়ার এপারে স্থাযীভাবে আসতে চাইলে প্রশাসন সর্বতোভাবে সহায়তা করবে।