শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি, ১৮ মার্চঃ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে চলছে বালি উত্তোলন। অভিযোগ, মাল ব্লকের চাঁপাডাঙ্গার তিন ও পাঁচ নম্বর স্পার সংলগ্ন এলাকায় নদী থেকে দিনের পর দিন ট্র্যাক্টরে ট্রলি লাগিয়ে অবৈধভাবে এই কাজ চললেও নির্বিকার প্রশাসন। যদিও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন মালের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক পিয়ালি পাহাড়ি।

উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ নদী, বিশেষ করে, তিস্তা থেকে বালি-পাথর তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে প্রশাসনের। তবে প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা পালনের কোনো বালাই নেই মাল ব্লকের চাঁপাডাঙ্গার। গত সপ্তাহদুয়েক ধরে চাঁপাডাঙ্গায় তিস্তা নদী থেকে অবাধে চলছে বালি তোলা। অভিযোগ, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দিনের পর দিন এই ব্যবসা চালিয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না প্রশাসন। বন্যাপ্রবন চাঁপাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতে বন্যা রোধ করতে প্রশাসনের তরফে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধ সংলগ্ন এলাকা থেকে যেভাবে মাটি তোলা চলছে তাতে আগামী বর্ষায় বাঁধের ক্ষতি হবে।

ময়নাগুড়ি কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রধান মধুসূদন কর্মকার জানান, এই ভাবে বালি, মাটি, পাথর তোলা হতে থাকলে নদীর স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ব্যাহত হবে। পাশাপাশি নদী তার গতিপথ পালটে লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। জানা গিয়েছে, চাঁপাডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকার বেশ কিছু ব্যবসায়ী তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার কাজ শুরু করেছে। নদী থেকে তোলার পর বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে সেই বালি। এতে একদিকে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে, অপরদিকে নদীর বাস্ততন্ত্রের ক্ষতি হচ্ছে। এই বিষয়ে মালের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক পিয়ালি পাহাড়ি জানান, বিষযটি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।