আবাস যোজনার টাকা না আসায় বিপাকে উপভোক্তারা

789

কোচবিহার : উত্তরবঙ্গের তিন জেলা ও শিলিগুড়ি মহকুমা এলাকা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় (বাংলার আবাস যোজনা) ঘরের টাকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বহু উপভোক্তা অর্ধেক ঘর তৈরির পর আর টাকা না পেযে বিপাকে পড়েছেন। কেউ আবার নিজের টাকায ঘরের কাজ শেষ করে ফেলেছেন। প্রায় দেড়মাস ধরে এই প্রকল্পের টাকা রাজ্য থেকে জেলাগুলিতে আসা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিযে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে উপভোক্তাদের মধ্যে। এদিকে আর্থিকবর্ষ শেষের আগে এই পরিস্থিতিতে চাপে পড়েছে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের পাশাপাশি শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদও। নির্দিষ্ট সমযে প্রকল্পের টার্গেট কীভাবে পূরণ করা যাবে, তা বুঝতে পারছেন না কোনো আধিকারিক। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায শুক্রবার বলেন, এই প্রকল্পে রাজ্যের ৪০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বাজেটে তা ধরাই থাকে। এতে কোনো সমস্যা নেই। কেন্দ্র তাদের ৬০ শতাংশ বরাদ্দ সময়মতো পাঠায়নি। তাই সমস্যা হচ্ছে। তবে আশা করছি টাকা এসে যাবে। বাজেটে এই বরাদ্দ ধরা থাকে। বিষয়টি নিয়ে তদবির করছি।

বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আবাস যোজনা প্রকল্পে এখন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয় উপভোক্তাদের। তিন ধাপে টাকা দেওয়া হয়। প্রথমে ৬০ হাজার  টাকা দেওয়া হয়। তারপর দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা।  শেষ কিস্তিতে দেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা। ২০১৯-এর ডিসেম্বর মাসের প্রথম থেকে উত্তরবঙ্গে সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রথম ধাপের টাকা সিংহভাগ উপভোক্তা পেলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির টাকা না পেযে সমস্যায পড়েছেন তাঁরা।

- Advertisement -

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা বাংলার আবাস যোজনা প্রকল্পে ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে গরিবদের ঘর দেওয়ার জন্য কোচবিহার জেলা কোটায বরাদ্দ হয়েছে ৩১৪৩টি ঘর। তার মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা সকলেই পেয়েছেন। দ্বিতীয কিস্তির টাকা পেয়েছেন ১৮৫০ জন উপভোক্তা। সবমিলিয়ে ৫১৮টি ঘর পুরোপুরি তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাকিরা টাকা না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন। জলপাইগুড়ি জেলা কোটায় রয়েছে ৪০৫৮টি ঘর। তার মধ্যে ৩৯০০ জন প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। তারপর আর কোনো টাকা কেউ পাননি। আলিপুরদুয়ার জেলা কোটায় পেয়েছে ৭৮১৩টি ঘর। তার মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন ৭১৯৮জন। দ্বিতীয় কিস্তি পেয়েছে ১৫৭৪ জন। তৃতীয় কিস্তি পেয়েছেন ছয় জন। ঘর পুরো তৈরি করেছেন ৪৩৭ জন। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এলাকায ১০৪০টি ঘরের অনুমোদন ছিল। তার মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন ২৭১ জন। এরপর আর কেউ বরাদ্দ পাননি।

কোচবিহারের গণেশ রায় নামে এক উপভোক্তা জানিয়েছেন, ‘৬০ হাজার টাকা প্রথম কিস্তিতে পেয়েছিলাম। সেই টাকা ঘর অর্ধেক করে বসে রয়েছি। বাকি টাকা এখনও পাইনি। টাকা এলে তবে বাকি কাজ করব। টাকা কবে আসবে তা নিয়ে বিডিও অফিসে যোগাযোগ করছি।’

কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি উমাকান্ত বর্মন বলেন, ‘ঘরের বরাদ্দ নিযে একটি সমস্যা চলছে। বিষযটি নিযে রাজ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই বরাদ্দ চলে আসবে।’ কোচবিহার জেলাপরিষদের এইও রামকষ্ণ মালি বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসের ১৮ তারিখের পর থেকে বরাদ্দের একটু সমস্যা রয়েছে। তবে উপভোক্তাদের ফান্ড ট্রান্সফার অর্ডারের কাজ করে রাখা হয়েছে। সমস্যা হবে না। শীঘ্রই বরাদ্দ চলে আসবে। নির্দিষ্ট সমযে ঘরও হযে যাবে। জেলা প্রশাসন বিষযটি মনিটারিং করছে।’

আলিপুরদুযার জেলাপরিষদের সভাধিপতি শিলা দাস সরকার বলেন, ‘বাংলার আবাস যোজনার বরাদ্দ আসছে না ডিসেম্বর মাস থেকে। আর দু-চার দিন দেখি। না হলে ফেব্রুযারি মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজ্যে জানাব।’ জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মন বলেন, ‘দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কেউ পাননি এখনও। তবে অনেক উপভোক্তা তার জন্য বসে না থেকে ঋণ নিয়ে ঘর করে ফেলেছেন বলে শুনেছি। বরাদ্দ এলেই তাঁরা টাকা পেযে যাবেন। কেন এমন হল তা দেখছি।’

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, ‘ঘরের টাকা না থাকায খুবই সমস্যা হচ্ছে। উপভোক্তারা টাকার বিষয়ে বলছেন। এখন কবে বরাদ্দ আসবে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছি।’

তথ্য- চাঁদ কুমার বড়াল