নিস হামলার তীব্র নিন্দা মোদির, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ফ্রান্সের পাশে থাকার বার্তা

530

নয়াদিল্লি: ফ্রান্সের নিস শহরে সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংকটের সময়ে ফ্রান্সের পাশে থাকা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথভাবে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘ফ্রান্সের নিস শহরে সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করছি। মৃতদের পরিবার ও ফ্রান্সের নাগরিকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত ফ্রান্সের পাশে আছে।’

বৃহস্পতিবার ফের সন্ত্রাসবাদী হানায় রক্তাক্ত হয়েছে ফ্রান্স। এদিন সকালে ফ্রান্সের নিস শহরের নটারডাম ব্যাসিলিকা গীর্জার সামনে এক সন্ত্রাসবাদী ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। ঘটনায় এক মহিলা সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মহিলার শিরোচ্ছেদ করা হয়েছে।

- Advertisement -

নিসের মেয়র ক্রিশ্চিয়ান এস্ত্রোসি এটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি টুইটে জানান, নটারডাম গীর্জার সামনে এক সন্ত্রাসবাদী ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিস শহরের পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনের মৃত্যুর পাশাপাশি বেশকিছু মানুষ ঘটনায় জখম হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জিন ক্যাসটেক্স জানিয়েছেন, ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ফ্রান্সের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। চলতি মাসের শুরুতেই সমস্যার সূত্রপাত। প্যারিসে স্যামুয়েল প্যাটি নামে এক স্কুল শিক্ষক ক্লাসে মহম্মদের ব্যাঙ্গচিত্র দেখালে তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করেন ১৮ বছর বয়সী চেচেন অরিজিন এক যুবক। শিরোচ্ছেদ করা হয় ওই শিক্ষকের। কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ব্যাঙ্গচিত্র আঁকা বন্ধ হবে না। তার পরপরই মুসলিম দেশগুলিতে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন ম্যাক্রোঁ। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সৌজন্যের তোয়াক্কা না করে ম্যাক্রোঁর সমালোচনা শুরু করেন। বাংলাদেশেও ‘বয়কট ফ্রান্স’ আন্দোলন শুরু হয়।

ব্যাঙ্গচিত্রে মহম্মদকে অপমান করা হয়েছে, সেই কার্যকলাপে মদত যোগাচ্ছেন এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ, এমন অভিযোগ তুলে মুসলিম প্রধান দেশগুলিতে ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাকও দেওয়া হয়। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ফরাসি প্রেসিডেন্ট। ব্যাঙ্গচিত্র আঁকার জেরে কাউকে নৃশংসভাবে খুন কোনওভাবেই সমর্থন করা হবে না বলে জানান ম্যাক্রোঁ। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ রুখতে ফ্রান্সের কঠোর অবস্থানের কথাও তিনি স্পষ্ট জানান। উগ্র মৌলবাদ ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে ফ্রান্স কড়া অবস্থান নেওয়ায় মুসলিম বিশ্বে প্রবল সমালোচিত হন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

তবে উগ্র মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে বুধবার খোলাখুলি সমর্থন জানিয়েছে ভারত। প্যারিসে শিক্ষকের শিরোচ্ছেদের ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়। পাশাপাশি ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানেরও সমালোচনা করা হয় ভারতের তরফে।

বৃহস্পতিবার ফের রক্তাক্ত হল ফ্রান্স। শিরোচ্ছেদ করা হল মহিলার। এই ঘটনার পর ম্যাক্রোঁ কী পদক্ষেপ করেন, সেদিক তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। তবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত যে ফ্রান্সের পাশে রয়েছে, তা মোদির টুইটেই পরিস্কার।