মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করা দিদির পুরোনো অভ্যাস, কটাক্ষ মোদির

57

আসানসোল: বাংলার নববর্ষের পরে প্রথম বঙ্গে প্রচারে এসে নতুন স্লোগান তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার সকালে আসানসোলের জামুড়িয়ার নিংঘার পরিত্যক্ত এরোড্রাম সংলগ্ন ময়দানের পশ্চিম বর্ধমান জেলার দলের ৯ প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করেন মোদি। বলেন, ‘চার দফার মতদান, টিএমসি হল খানখান। বাকি চার দফার মতদান, দিদি ভাইপো টিকিট কাটান।’

এদিন বক্তব্য রাখার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘নববর্ষের পরে এদিন প্রথম বাংলায় সভা করতে এলাম। এখানে যখন বক্তব্য রাখছি, তখন বাংলার মানুষেরা পঞ্চম দফার ভোট খুব ভালো ভাবে দিচ্ছেন।’ নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে দিদি, ও দিদি সম্বোধন করে বলেন, ‘২ মে হতে অর্ধেক মাস বাকি। আর অর্ধেক ভোট বাকি। কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। এবার আসল পরিবর্তন করে সোনার বাংলা গড়তে হবে। কাটমানি নেওয়া বন্ধ করতে হবে। তোলাবাজিকে শূন্য করতে হবে। বিজেপির সরকার বাংলার মানুষের জন্য কাজ করবে। পুলিশ নিজেদের কাজ করবে। আর বিজেপির কার্যকর্তারা আপনাদের সেবা করবে। গত ১০ বছরে দিদির সরকার উন্নয়নের নামে ধোঁকাবাজি করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আনা ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা দেশের অন্য রাজ্য পেলেও, বাংলার মানুষেরা পাননি। কারণ সেটা দিদি আটকে দিয়েছেন। শরণার্থীদের জন্য আনা আইনের বিরোধিতা দিদি করেছেন। কেন্দ্র সরকারের বলতে গেলে সব প্রকল্পের বিরোধিতা দিদি করেছেন। ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে এইসব হবে না। ২ মে-র পরে বাংলায় ডবল ইঞ্জিনের সরকার হবে।’

- Advertisement -

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করে মোদি বলেন, ‘দিদির অহংকার এত বেশি হয়ে গিয়েছে যে, তাঁ র সামনে থাকা সবাইকে ছোট মনে করেন। করোনা নিয়ে দুটো বৈঠক হল। অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যোগ দিলেও দিদি যোগ দেননি। এখানে কেন্দ্রীয় দল এলে তাদেরকে আটকানো হয়। দিদির চোখে অহংকারের পর্দা পড়ে রয়েছে। দিদির রাজনীতি এখন হিংসার রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরে কত মা তাঁর ছেলেকে হারিয়েছেন। কত বোন তার ভাইকে হারিয়েছে। কোচবিহারে যা হল, তা তো সবাই জানেন। সেই ঘটনার পরে একটা অডিও টেপ বেরিয়েছে। শুনেছেন নিশ্চয়ই। ৫ জনের মৃত্যুর পরেও কেমন রাজনীতি করছে দেখুন। তৃণমূলের নেতাকে বলা হচ্ছে, মৃতদেহ নিয়ে যাত্রা করার জন্য। দিদি ভোট ব্যাংকের জন্য আর কতদূর যাবেন। মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করা দিদির পুরোনো অভ্যাস। গণতন্ত্রের পরোয়া দিদি করেন না।’

মোদি বলেন, ‘২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন কেউ ভুলতে পারবে না। এক তৃতীয়াংশ পঞ্চায়েতে তো প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা আছে, ‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য’। কিন্তু দিদির এখানে ‘চিত্ত যেথা ভয়ে আক্রান্ত’। এবারের নির্বাচন দিদি ছাপ্পা ভোট করতে পারছেন না। তাই তিনি রেগে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের উপরে চাপ দেওয়া হচ্ছে। সিআরপিএফকে আক্রমণ করছেন। এবারে আপনার কোনও পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র সফল হবে না। এবার বাংলার মানুষের সবসময়ের জন্য এমন সার্টিফিকেট দিতে চলেছেন। সেটা হল ‘ভূতপূর্ব মুখ্যমন্ত্রী’র সার্টিফিকেট। সেটা নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন। দিদির আপনার সবকিছুতে বাংলার সন্দেহ করছেন। তাই তো, ‘কিছু নেই তৃণমূলে, সব ভোট পদ্মফুলে।’