কলকাতা আবার দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

805

কলকাতা: মমতার সুরে বাংলার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি)-র ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্প নিয়ে বলতে গিয়ে বাংলার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি ভিডিয়ো কনফারেন্সে বলেন, করোনা ভাইরাসের এই সঙ্কটকেই দেশের ঘুরে দাঁড়ানোর টার্নিং পয়েন্ট করতে হবে৷ আমার বিশ্বাস, কলকাতা আবার দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারে। এদিন বণিকসভাকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘‘আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পে সরকার ব্যবসা সহায়ক বহু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। আপনারা তার সুযোগ নিন। নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসুন। সরকার আপনাদের সব রকম সাহায্য করবে।’’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের জেরে অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ভার্চুয়াল ভাষণে মোদি বলেন, “গোটা বিশ্ব এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমরাও সেই চ্যালেঞ্জের মুখেই দাঁড়িয়ে। আমরা সবাই একজোট হয়ে করোনা,পঙ্গপাল, অসমে তৈলক্ষেত্রে আগুন, কিছু এলাকায় ভূমিকম্পের মতো সমস্যা নিয়ে লড়ছি। ভারত এখন আত্মনির্ভর হওয়া শুরু করেছে। আমরা এই বিপদের মুহূর্তকে সুযোগে পরিণত করব। লড়াই চলছে। গোটা দেশকে নিজের পায়ে ফের দাঁড় করানো আমাদের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।”

- Advertisement -

আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনে সংশোধনীর কথা মনে করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় পণ্যের জন্য ক্লাস্টার গঠন হবে।’ পশ্চিমবঙ্গেও ‘জুট-ক্লাস্টার’ তৈরি হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘আমার নিজের কেন্দ্রের(বারাণসী) সঙ্গে কলকাতার এই যোগ খুব ভাল লাগে।’’ দেশে ‘সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিক’ বর্জনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আবার বাংলায় রয়েছে পাটশিল্পের বিরাট হাব। প্লাস্টিক বর্জন করলে প্রয়োজন পড়বে পাটের ব্যাগ, প্যাকেজিং মেটেরিয়াল। এই যোগসূত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনারা পাটের ব্যাগ, প্যাকেজিং মেটেরিয়াল তৈরি করুন। তাতে রাজ্যেরও লাভ, দেশেরও লাভ। পশ্চিমবঙ্গে তৈরি পাটের জিনিসপত্র সারা দেশের মানুষের হাতে হাতে ঘুরবে, এটাও তো পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিরাট গর্বের বিষয়।’’

তিনি আরও বলেন, কৃষি নীতির সংশোধনের ফলে বছরের পর বছরের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবেন কৃষকরা। এসেনসিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্টের সংশোধনের মাধ্যমে চুক্তিচাষের দ্বারা এবার থেকে সরাসরি কৃষি ও শিল্প এক সূত্রে যুক্ত হবে। তিনি বলেন, এবার থেকে কৃষকরা যেখানে খুশি তাঁদের উৎদন বিক্রি করতে পারবে। এর ফলে, তাঁদের লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এর সঙ্গে বিশ্বে অর্গ্যানিক কৃষির সম্ভাবনার কথাও ব্যাখা করে মোদি বলেন, “শুধুমাত্র সিকিম নয়, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত জৈব চাষের হাব তৈরি হতে পারে। সেই কাজে কলকাতা নেতৃত্ব দিতে পারে।”

এদিন প্রধানমন্ত্রীর গলায় বাংলার গুনগান শুনে, এর পিছনে বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। তাঁদের কথায়, সামনই বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। আর তাতে বাংলার শিল্পায়নকে হাতিয়ার করে লড়াই করতে পারে বিজেপি। এদিন সেই পথই কার্যত সুগম করে দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।