গ্রামীণ সড়ক তৈরিতে নয়া নিয়ম

311

কোচবিহার : প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় বা বাংলার গ্রামীণ সড়ক যোজনায় রাস্তা তৈরির নিযমকানুন এবার আমূল বদলে দিচ্ছে কেন্দ্র। হাসপাতাল, স্কুল, ব্লক অফিস, গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, কিষান মান্ডির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিকে জুড়তে হবে রাস্তা তৈরিতে। শুধু তাই নয়, এই যোজনার আওতায় আসা রাস্তার দৈর্ঘ্য অন্তত তিন কিলোমিটার হতে হবে। সেইসঙ্গে দশ বছরের মধ্যে তৈরি কোনও রাস্তাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা যাবে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, এ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার নাম বদলে বাংলার গ্রামীণ সড়ক যোজনার নামে চালানো হচ্ছে। সেই প্রকল্পে যেভাবে কম টাকার কাজে ছোট ছোট রাস্তা তৈরি হচ্ছে বা কয়েক বছর আগে তৈরি হওয়া রাস্তা আবার সংস্কার করা হচ্ছে তা এবার বন্ধ করতেই কড়াকড়ি করছে কেন্দ্র।

খুব শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা বা বাংলার গ্রামীণ সড়ক যোজনা ৩-এর কাজ শুরু হবে। এবার এই প্রকল্পে মানুষ যাতে সহজে পরিষেবা পাওয়ার জায়গায় যেতে পারেন সে ব্যাপারে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। সেই কথা মাথায় রেখেই এবার যোজনার রাস্তার নিযমে কিছু বদল আনা হচ্ছে। আগে সড়ক যোজনা ২-এর অধীনে গ্রামীণ সড়ক যোজনার রাস্তাগুলি চওড়া ও সংস্কার হত। তিন কিলোমিটারের কম রাস্তা তৈরি হত। রাজ্যে বিরোধী দলগুলি বারবার অভিযোগ করেছে, রাজ্য সরকার প্রকল্পের নাম বদলে বাংলার সড়ক যোজনা করে তার আওতায় ছোট ছোট রাস্তা কম টাকায় করছে। তিন লক্ষ টাকার কম টেন্ডার থাকায় তা গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরেই করে ফেলা যাচ্ছে। এতে প্রচুর অনিয়ম করার সুযোগ পাচ্ছে তৃণমূলশাসিত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি।

- Advertisement -

এবার সড়ক যোজনা ৩-এ বলা হয়েছে, তিন কিলোমিটারের চেযে ছোট কোনও রাস্তা করা যাবে না। দশ বছরের আগে পুরানো কোনও রাস্তা গ্রামীণ সড়ক যোজনায় সংস্কার বা নতুন করে করা যাবে না। আর সবচেযে গুরুত্বপূর্ণ, যে রাস্তাগুলি তৈরি হবে সেগুলি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিষেবার বিষযটি মাথায় রাখতে হবে। ওই রাস্তায কোনও বিদ্যালয়, হাসপাতাল, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, রেলস্টেশন, কিষান মান্ডি, বাসস্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাযগা থাকতে হবে।

জানা গিয়েছে, এবার সব গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ নিয়ে একটা ম্যাপ তৈরি হয়েছে। তার জন্য ডিস্ট্রিক্ট রুরাল রোড প্ল্যানও তৈরি হয়েছে। এরপর তা সার্ভে করে নির্দিষ্ট পোর্টালে জিও ট্যাগ দিয়ে আপলোড করতে হবে। ফলে রাজ্য এবং কেন্দ্র সদর দপ্তর থেকেই দেখতে পাবে- কোন এলাকায় কোন রাস্তা নেই বা প্রযোজন বা কোথায় রাস্তা হয়েছে, সংস্কারের ক্ষেত্রে রাস্তার বর্তমান হাল কেমন।

কোচবিহার জেলা পরিষদের অ্যাডিশনাল এগজিকিউটিভ অফিসার শেখ আনসার আহমেদ বলেন, ‘এবার এমন রাস্তা হবে যেগুলি মানুষ বেশি ব্যবহার করবেন বা কাজে লাগবে। আর সিস্টেম বলে দেবে কোন রাস্তা আগে তৈরি করতে হবে। সেই হিসাবে সমস্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ গ্রামীণ সড়ক যোজনার আলিপুরদুযার জেলা এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মলয় গোস্বামী বলেন, ‘বেশকিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এবার রাস্তা তৈরি হবে। নিয়মে কিছু পরিবর্তন রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মন বলেন, ‘ছোট ছোট স্কিম এখন করা হয় না। বড় স্কিমে রাস্তা করা হয়। সমস্ত গাইডলাইন দেখে তারপর বিস্তারিত বলব।’ শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, ‘পাঁচ বছর রাস্তার সংস্কারের মেয়াদ থাকে। সেখানে বলা হচ্ছে, দশ বছরের পুরানো ছাড়া রাস্তা করা যাবে না। আরও অনেক নতুন নির্দেশ রয়েছে। এসব কাজ থেকে হাত তুলে নেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।’

তথ্য- চাঁদকুমার বড়াল