ব্রাউন করিডর দিয়ে বন্যপ্রাণী পাচার হচ্ছে ডুয়ার্স থেকে

357

আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ারে চোরাশিকারি এবং বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অসম বাংলা সীমান্তের দুর্গম রাস্তা ব্যবহার করে চোরাশিকারীরা ডুয়ার্সের জঙ্গল এবং অসমের মধ্যে করিডোর গড়ে তুলেছে। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, চোরাশিকারি ও বন্য প্রাণীর দেহাংশ পাচারকারীদের ব্যবহৃত এই করিডোর ‘ব্রাউন করিডোর’ নামেই আন্তরাজ্য পাচারচক্রের কাছে পরিচিত। শুক্রবার গভীর রাতে আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন দমনপুর এলাকায় অসম নম্বরের গাড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ একটি গেকো বা তক্ষক উদ্ধার করার পর তদন্তে এই তথ্যই উঠে এসেছে। তক্ষক পাচারের অভিযোগে পুলিশ আবু সামা আলি, সফিকুল ইসলাম এবং জয়নুদ্দিন আলিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিনজনই অসমের উদালগুড়ি জেলার বাসিন্দা। আবু সামা আলি পেশায় হাতুড়ে ডাক্তার। তার গাড়ি থেকেই তক্ষকটি উদ্ধার করা হয়। শনিবার ধৃতদের এবং উদ্ধার হওয়া তক্ষকটিকে আদালতে তোলা হয়।তক্ষকটিকে বনবিভাগের হতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধৃতদের জেরা করার জন্য পুলিশ হেপাজতে নিয়েছে। পরে তাদের বন দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এইচ এম রহমান বলেন, ‘ধৃতদের সঙ্গে জলদাপাড়া জঙ্গলে গন্ডার হত্যা এবং খড়্গ লোপাটের কোনো যোগ আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।’ বক্সা টাইগার রিজার্ভের ডিএফডি কল্যাণ রাই বলেন, ‘ধৃতদের সঙ্গে চোরাশিকারি এবং বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পাচারকারীদের যোগসূত্র থাকতে পারে।”

শুক্রবার রাতে ওই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা একটি গেকো বা তক্ষকের সন্ধান মেলে। গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায় গাড়িতে ডাক্তারের ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং যন্ত্রপাতি আছে। সম্প্রতি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে গুলিবিদ্ধ এক গন্ডারের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পাচারকারীরা গন্ডারের খড়গ কেটে নিয়ে যায়। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যে সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে। চোরাশিকারিদের সন্ধানে ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর ,অসম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের চোরাশিকারিরা অসম-বাংলা সীমান্তের দুর্গম রাস্তা ব্যবহার করে ডুয়ার্সের জঙ্গলে পৌঁছানোর জন্য এক গোপন করিডর তৈরি করেছে।এই করিডরকেই তারা ‘ব্রাউন করিডোর’ হিসাবে ব্যবহার করছে। বক্সা টাইগার রিজার্ভের ডিএফডি কল্যাণ রাই বলেন, ‘ডুয়ার্সের জঙ্গল থেকে গেকো পাচার করার জন্য একটি চক্র সক্রিয় আছে। বিদেশে এই সব গেকো বিক্রি করা হয়।২০১৭ সালে বন বিভাগ গেকো পাচারের অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছিল। এর মধ্যে একজন অসমের বাসিন্দা। সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় আদালত তাদের তিন বছরের কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে।”

- Advertisement -

তথ্য- সুমন কাঞ্জিলাল