তৃণমূলের তারকা প্রার্থীকে প্রচারে বাধা, অভিযোগে বিদ্ধ বিজেপি

73

আসানসোল: আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা প্রার্থী সায়নী ঘোষকে রানিগঞ্জ এলাকায় প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি সহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে রাস্তা অবরোধ করে সায়নী ঘোষ ‘গো ব্যাক’ স্লোগান উঠে। ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে রানিগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় আসানসোল দক্ষিন বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সায়নী ঘোষ প্রচারে রানিগঞ্জের ওল্ড এগারা থেকে নিউ এগারার দিকে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেসময় প্রচারের মাঝে তাঁর বিরুদ্ধে গো ব্যাক স্লোগান তোলেন ওই এলাকার কিছু বাসিন্দা। জানা গিয়েছে যারা তাঁর প্রচারের বিরোধিতা করেছেন তারা নিজেদের হিন্দু সমর্থক বলে দাবি করেন। এদের প্রত্যেকের হাতেই হলুদ রঙের একটি পতাকাও ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এই উস্কানির পেছনে রয়েছে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সদস্যরা। সায়নীর প্রচারের মাঝে সায়নী ঘোষ গো ব্যাক স্লোগান তোলার পাশাপাশি জয় শ্রীরাম ধ্বনিও দেওয়া হয়।

- Advertisement -

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সায়নী হিন্দু দেব-দেবীদের অপমান করেছেন। এদিন তিনি এই এলাকায় একটি দূর্গামন্দিরে প্রণাম করেছেন। এরফলে মন্দির অপবিত্র হয়েছে। তাই তাকে রানিগঞ্জে প্রচার করতে দেওয়া হবে না। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন ওই যুবকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় রানিগঞ্জ থানার পুলিশ। অন্যদিকে,  প্রচার বন্ধ করে মাঝ পথে এলাকা থেকে বেরিয়ে যান সায়নী। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির কর্মীরা এইসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে।

রানিগঞ্জ দক্ষিণ গ্রামীণ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি দেবনারায়ন দাস বলেন, ‘এদিন সায়নী ঘোষকে দেখে গ্রামের মানুষ যখন ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তখন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা জনপ্রিয়তা দেখে ক্ষুব্ধ হন। এরপর তারা শুধু সায়নী ঘোষের উদ্দেশ্যে গো ব্যাক দেওয়া ও কটুক্তি করার পাশাপাশি রাস্তা অবরোধ করে। দলের কয়েকজন সমর্থককে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। এই ঘটনা নিয়ে দলের নেতা প্রবোধ রায় নির্দিষ্ট কয়েকজনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।’

অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের পক্ষে অভীক মন্ডল বলেন, ‘এলাকার সমস্ত হিন্দুরা ওই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি হিন্দুদের অপমান করেছেন। তারপরেও দুর্গামন্দিরে এসেছিলেন। তাই আমরা ওই দুর্গামন্দিরকে জল দিয়ে ধুয়ে পবিত্র করলাম।’

রানিগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, একটা অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে।