আলিপুরদুয়ারের হোমস্টের ওপর নজর পুলিশের

496

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : এবার থেকে পুলিশ আলিপুরদুয়ারের সমস্ত হোমস্টের ওপর নজরদারি চালাবে। যাঁরা এই হোমস্টেগুলিতে থাকবেন, কর্তৃপক্ষকে তাঁদের প্রত্যেকের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংশ্লিষ্ট থানাকে জানাতে হবে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ এই উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে, পর্যটকদের সামনে নিজেদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে এবার আলিপুরদুয়ারে ডুয়ার্স টুরিজম অ্যান্ড কালচারাল ফেস্টিভাল শুরু হচ্ছে। জেলার ১০-১২টি সংগঠন মিলে এই উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।

আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, বর্তমানে পিকনিকের মরশুম চলছে। এরপরই বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে যাবে। তাই সমস্ত জায়গার নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। সমস্ত জায়গায় আমরা নিয়মিত নজরদারি চালাব। যাঁরা জেলার হোমস্টেগুলিতে থাকবেন তাঁদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষগুলিকে রোজ সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করতে হবে। বিষয়টি হোমস্টে মালিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজাভাতখাওয়ার একটি হোমস্টের মালিক লালসিং ভুজেল বলেন, যাঁরা হোমস্টেগুলিতে থাকতে আসবেন তাঁদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য জানাতে আমাদের কোনও অসুবিধা নেই। এতে বরং আমাদের সুবিধাই হবে। হোমস্টেতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পুলিশ সেইমতো ব্যবস্থা নিতে পারবে।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনের জন্য পুলিশ চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেলার বক্সা, রাজাভাতখাওয়া, চুনাভাটি, রায়মাটাং, তুরতুরিখণ্ড, চিলাপাতা সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় ৮০-১০০টি হোমস্টে রয়েছে। বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় থাকা এই হোমস্টেগুলি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। এতদিন এগুলিতে কারা আসছেন, কী করছেন সে বিষয়ে পুলিশ কোনও খোঁজখবর রাখত না। তবে পুলিশ এবার থেকে এই হোমস্টেগুলিতে নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হোমস্টেগুলির মালিকদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারা এই হোমস্টেগুলিতে আসছেন সে বিষয়ে পুলিশকে যাবতীয় তথ্য জানাতে হবে। ভোটের আগে দুষ্কৃতীরা যাতে এই হোমস্টেগুলিকে ব্যবহার করে কোনও দুষ্কর্ম না চালাতে পারে সেজন্য পুলিশ উদ্যোগী হয়েছে।

অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ারের সংস্কৃতিকে ভালোভাবে সবার সামনে তুলে ধরতে পর্যটন ব্যবসায়ীরা উদ্যোগী হয়েছেন। বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা ররিবার রাজাভাতখাওয়ায় বৈঠকে বসে। সেখানেই ডুয়ার্স টুরিজম আ্যান্ড ফেস্টিভাল-এর আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ১২ জানুয়ারি রাজাভাতখাওয়ায় উৎসবের সূচনা হবে। ২৬ জানুয়ারি বক্সা ফোর্টে উৎসব শেষ হবে। এই কদিন জেলার বিভিন্ন জায়গাজুড়েই জেলার বিভিন্ন জাতি,  উপজাতিভুক্ত বাসিন্দারা নাচ, গানের মাধ্যমে পর্যটকদের সামনে নিজেদের কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে তুলে ধরবেন। পর্যটকদের পাতে আলিপুরদুয়ারের নিজস্ব নানা রান্নাবান্না তুলে দেওয়া হবে। উৎসবের কোঅর্ডিনেটর রামকুমার লামা বলেন, ২০১৫ সাল থেকে আমরা এই উৎসবের আয়োজন করে আসছি। তবে এবারে জেলার সমস্ত সংগঠনকে নিয়ে বড় আকারে উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।