প্লাস্টিকের আমের টুকরি সরাতেই বেরিয়ে এল গাঁজা

179

ফাঁসিদেওয়া, ১৫ জুনঃ কোচবিহার থেকে আম আনতে মালদা যাওয়ার পথে গাঁজা পাচারের ছক পুলিশ বানচাল করল। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে ফাঁসিদেওয়া থানার ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ অভিযানে নামে। খবর মোতাবেক রবিবার রাতেই ঘোষপুকুর মোড় সংলগ্ন ময়লানিজোত ট্রাক টার্মিনাসের কাছো নাকা চেকিং বসানো হয়। সেখানেই পুলিশ সন্দেহজনক পিকআপ ভ্যান আটক করে। পিকআপ ভ্যানে কাঁদা মাখা আমের খালি টুকরি বোঝাই ছিল। তল্লাশি চালাতে গেলেই পিকআপের চালক বলে উঠেছিল, বাবু গাড়িতে কিছু নেই। কিন্তু, সেই খালি টুকরি সরাতেই ভেতর থেকে প্রায় ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। গাঁজা পাচারের অভিযোগে পেশায় গাড়ির চালক আইনুল মিঞা (৩২) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সে কোচবিহার জেলার ঘেঘীরঘাটের বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাচারে ব্যবহৃত গাড়িটিও আটক করা হয়েছে। সোমবার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

- Advertisement -

গোপন সূত্রে গাঁজা পাচারের খবর পেয়ে ঘোষপুকুর ফাঁড়ির ওসি অভিজিৎ বিশ্বাস তাঁর দল নিয়ে অভিযানে নামেন। নাকা চেকিং বসানো হয়। এরপরই গাড়িটি পুলিশ পাকড়াও করেছে। এনিয়ে ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ চলতি মাসের ৪ এবং ৯ তারিখ ২টি পৃথক ঘটনায় প্রায় ৮০০ কেজি গাঁজা সমেত মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে, ৬ জুন ফাঁসিদেওয়া থানার অন্তর্গত বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ প্রায় ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। যদিও, ওই ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সকল ঘটনাতেই গাঁজা ঘোষপুকুর মোড় হয়ে অন্য জেলার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এছাড়াও, ঘোষপুকুর হয়ে যেসকল গাড়ি এই মাসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সবই কোচবিহার জেলা থেকে আনা হয়েছিল। এদিনের ঘটনায় মালিকের গাড়ি নিয়ে চালক মালদায় আম আনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সে সময় কোচবিহার থেকে গাঁজা বোঝাই করে মালদায় পাচার করার ছক কষেছিল পাচারকারী দল। পুলিশ মনে করছে উদ্ধার হওয়া গাঁজার মূল্য ২ লক্ষ টাকা। সূত্রের খবর, চালক এর আগেও এধরণের কাজ বহুবার করেছে। এবারে সাফল্য মিললে, সে ৭ হাজার টাকা পেত। ঘটনায় পুলিশ এনডিপিএস ধারায় মামলা রুজু করেছে। পুলিশি হেপাজতের আর্জি জানিয়ে ধৃতকে এদিন আদালতে তোলা হয়েছে।

ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্ত জানিয়েছেন, খবরের ভিত্তিতে গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। এনিয়ে মোট ৩টি ঘটনায় প্রায় ৯০০ কেজি গাঁজা হয়েছে। ধৃতকে পুলিশি হেপাজতে নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, এই পাচার চক্রে আর কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামীতে এধরণের অভিযান আরও চালানো হবে।