দিলীপ ঘোষের সভা নিয়ে অশান্তি, গ্রেপ্তার চার বিজেপি কর্মী

388

বর্ধমান: বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের জনসভা ঘিরে শনিবার অশান্ত হয়ে ওঠে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর। ওই দিন তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন ৪ বিজেপি কর্মী। ধৃতদের নাম উত্তম মালাকার, প্রদীপকুমার ঘোষ, গৌতম মণ্ডল ও অভিজিৎ সরখেল। বর্ধমান শহরের টিকরহাট এলাকায় অভিজিতের বাড়ি। উত্তমের বাড়ি বর্ধমানের ৫ নম্বর ইছলাবাদ এলাকায়। বাকি দুই ধৃত জামালপুর থানার আবুজহাটি ও তেলে গ্রামের বাসিন্দা। জামালপুর থানার পুলিশ শনিবার ঘটনাস্থল থেকেই অভিজিৎ ও উত্তমকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিন রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ বর্ধমানের বাড়ি থেকে প্রদীপ ও গৌতমকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাঠি, লোহার রড, ভাঙা ইটের টুকরো, পাথর ইত্যাদি উদ্ধার করেছে।

পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। পাশাপাশি তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে জামালপুর ব্লক তৃণমূল যুব নেতা মইনুর রহমান মিদ্যা পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতেও পুলিশ একটি মামলা রুজু করেছে। রবিবার চার ধৃতকেই বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের হদিশ পেতে তদন্তকারি অফিসার উত্তম ও প্রদীপকে ৭ দিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম কল্লোল ঘোষ ধৃত উত্তম ও প্রদীপের ২ দিনের পুলিশ হেপাজত ও অপর দুই ধৃতকে বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে বুধবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।

- Advertisement -

পুলিশ জানিয়েছে, নয়া কৃষি আইনের সমর্থনে শনিবার বিকেলে জামালপুরের সাহাপুরে বিজেপির সভা ছিল। সেই সভায় যোগ দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষের কনভয় জামালপুরের জৌগ্রাম হয়ে সাহাপুরে সভাস্থলের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় জৌগ্রামের আমড়া মোড়ের কাছে এলাকার কিছু লোক বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে কালো পতাকা দেখান। অভিযোগ, তখনই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা গাড়ি থেকে নেমে লাঠি, রড ইত্যাদি নিয়ে কালো পতাকা দেখানো লোকজনের উপর হামলা করেন। তাঁদের মারধরও করেন। রাস্তার পাশে থাকা তৃণমূলের পার্টি অফিসেও বিজেপি কর্মীরা ভাঙচুর চালান। পার্টি অফিসের সামনে রাখা কয়েকটি বাইক ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনা নিয়ে যুযুধান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হলে লাঠি চার্জ করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তখনই বিজেপি কর্মীরা পুলিশের উপরও হামলা চালান বলে অভিযোগ। ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ কর্মী ও এক সিভিক ভলান্টিয়ার জখম হন। পুলিশের একটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়।

জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দী যদিও দাবি করেছেন, পুলিশ তৃণমূল নেতাদের কথায় চার বিজেপি কর্মীকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়েছে। যাঁরা দিলীপ ঘোষকে কালো পতাকা দেখালেন, বিজেপি কর্মীদের মারধর করলেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই পুলিশ নেয়নি। সন্দীপ নন্দী বলেন, রাজনৈতিকভাবেই বিজেপি জামালপুরে পুলিশ ও তৃণমূলের যৌথ সন্ত্রাসের মোকাবিলা করবে।

অন্যদিকে, জামালপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি শ্রীমন্ত রায়ের পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূলের কেউ দিলীপ ঘোষকে কালো পতাকা দেখায়নি। জৌগ্রামের সাধারণ মানুষ কালো পতাকা দেখিয়েছে। বিজেপি কর্মীরা জৌগ্রামের তৃণমূল পার্টি অফিসে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন। বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। এতকিছুর পরও বিজেপি নেতা বলছেন সব মিথ্যা অভিযোগ। বিজেপি যদি মনে করে, সন্ত্রাসের পথে তৃণমূলের মোকাবিলা করবে, তাহলে তৃণমূল কর্মীরাও তার যোগ্য জবাব দিয়ে দেবেন।

দিলীপ ঘোষকে হেনস্তার ঘটনায় রবিবার মন্তেশ্বরের বিজেপি কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।