উত্তরপ্রদেশ থেকে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে তিন যুবককে আটকাল পুলিশ

247

রামকৃষ্ণ বর্মন, জামালদহ: উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে দিন কয়েক আগেই রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। বাড়ি কোচবিহার জেলার শীতলকুচি থানা এলাকায়। তাঁরা প্রায় বাড়ি পৌঁছেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু নিজের জেলায় ঢুকতে না ঢুকতেই কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার সীমান্তে রানিরহাট-সাপ্টিবাড়ি সড়কে নাকাচেকিংয়ের সময় মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। তারপর টানা কয়েক ঘন্টা ধরে সেখানেই তাঁদের অপেক্ষা করিয়ে রাখে পুলিশ। ইতিমধ্যে বৃষ্টি নামে। এই অবস্থায় সন্ধ্যে গড়িয়ে গেলেও সেখানেই অভুক্ত অবস্থায় বসিয়ে রাখা হয় আটক যুবকদের। যুবকদের ছাড়া হবে না কি কোয়ারান্টিন সেন্টারে পাঠানো হবে, সেটা স্পষ্ট করেনি পুলিশ। স্থানীয় মানুষজনের বক্তব্য, ‘এভাবে বাইরে থেকে আসা যুবকদের কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। বৃষ্টির সময় স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলের বারান্দায় ওই যুবকেরা আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে পুলিশি পাহারা রয়েছে।’

জানা গিয়েছে, ওই তিন যুবকের নাম মনোরঞ্জন বর্মন, প্রভাত বর্মন ও সাগর বর্মন। তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি শীতলকুচি এলাকায়। উত্তরপ্রদেশে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য তাঁরা মরিয়া হয়ে ওঠেন। কিন্তু যাতায়াতের কোনও মাধ্যম না পেয়ে তাঁরা পায়ে হেঁটেই বাড়ির মুখে রওনা দিয়েছিলেন। তারপর কখনও পায়ে হেঁটে কিংবা কখনও কাকুতিমিনতি করে কোনও গাড়িতে উঠে বাড়ির পথে অগ্রসর হতে থাকেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক ছিলেন। বাকিরা গন্তব্যে পৌঁছে গেলেও এদিন পুলিশ তাঁদের আটক করেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুবকদের নাকা চেকপোস্টেই আটকে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এ ব্যাপারে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।

- Advertisement -

এ ব্যাপারে জানতে মেখলিগঞ্জ থানার ওসি রাজু সোনার ও মেখলিগঞ্জের এসডিপিও সিদ্ধার্থ দর্জিকে বার বার ফোন করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। মেসেজ পাঠানো হলেও জবাব আসেনি। মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়া শুধু বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে। মহকুমাশাসক রামকুমার তামাং রাতে বলেন, আমার কাছে কোনও তথ্য নেই। ওসি বলতে পারেন। তবে, রাত নটা নাগাদ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গিয়েছে, রানিরহাট থেকে ওই যুবকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর কোনও কোয়ারান্টিন কেন্দ্রে তাঁদের পাঠানো হবে কি না তা পুলিশ-প্রশাসনের কেউই স্পষ্ট করেননি।