আসামি ধরতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ, গ্রেপ্তার ৪

356

মুরতুজ আলম, সামসী: আসামি ধরতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন চার পুলিশকর্মী। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়িও। মঙ্গল গভীর রাতে চাঁচল-১ ব্লকের অলিহন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের কনুয়ায় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। আপাতত এলাকা শান্ত থাকলেও বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় টহল দিচ্ছে। ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কনুয়াতে পুরোনো আসামি ধরতে গিয়েছিল চাঁচল থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। কিন্তু পুলিশ দেখা মাত্রেই পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি এবং পাথরও ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। পাথরের আঘাতে আহত হয়েছেন চার পুলিশকর্মী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশও ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল।

- Advertisement -

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় একটি রাস্তার কাজকে ঘিরে ঘটনার সূত্রপাত। নিম্নমানের কাজ হচ্ছে বলে রাস্তার কাজে কংগ্রেসের কিছু লোকজন বাধা দেওয়ায় প্রধান মনোয়ারা বিবির ভাসুর এহসান আলি ও স্বামী আনসার আলী এলাকায় গেলে দুপক্ষের হাতাহাতি হয়। দুতরফেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশের উপরে হামলা চালানোর ঘটনায় শাসকদলের দিকে আঙুল উঠেছে। অধিযোগ, শাসকদলের উস্কানিতেই লোকজন ডেকে জড়ো করে পুলিশের উপরে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনার হামলায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে রাতেই তৃণমূল প্রধানের স্বামী ও আরও তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশের উপরে হামলায় শাসকদলের প্রধানের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন নেতৃত্ব। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে রাস্তার কাজে কংগ্রেসের যারা বাঁধা দিয়েছিলেন এবং শাসকদলের লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন তাঁদের পরিবারকে বয়কট করার ফতোয়া জারি করেন প্রধানের স্বামী আনসার আলি বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের খোঁজে মঙ্গলবার গভীররাতে কনুয়ায় তল্লাশিতে যান পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছাতেই এহসান আলি ও আনসার আলীরা উস্কানি দিয়ে বাসিন্দাদের জড়ো করেন বলে অভিযোগ।তাদেরই হাতে আক্রান্ত হয় পুলিশ। ওই রাতেই হামলাকারীদের একাংশ অলিহন্ডা অঞ্চল কংগ্রেস কমিটির সভাপতি মহম্মদ আশরাফুল হকের বাড়িতেও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে সপরিবারে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান মহম্মদ আশরাফুল হক।

চাঁচল-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সচ্চিদানন্দ চক্রবর্তী জানান, পুলিশের ওপরে হামলার ঘটনায় দলের কেউ জড়িত থাকলে দলীয় পর্যায়ে তদন্তের পাশাপাশি বিষয়টি পুলিশকেও দেখতে বলা হয়েছে। কংগ্রেসের অলিহন্ডা অঞ্চল সভাপতি মহম্মদ আশরাফুল হকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, দলের আব্দুল মান্নান দলের এক কর্মী কাজ নিয়ে অভিযোগ তোলায় তাঁকে ও কয়েকজনকে শাসকদলের পক্ষে বয়কট করার ফতোয়া জারি করা হয়েছিল। আমরা এর প্রতিবাদ করি। প্রতিবাদ করায় ওরা আমার বাড়িতে হামলা করে।

খবর পেয়ে বুধবার চাঁচল আসেন খোদ মালদা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। তিনি বলেন, ওই এলাকায় দুটি মারপিটের ঘটনায় অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশিতে গিয়েছিলে পুলিশ। ওই সময়ে কিছু অসামাজিক লোক বাসিন্দাদের উসকে দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। মারধর করে কয়েকজন পুলিশকর্মীকে। ঘটনায় অভিযুক্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।